বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি ফাঁস হওয়া অনুলিপি থেকে থেকে জানা যায়, এই দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত কয়েকটি দেশ রয়েছে। এ নিয়ে মুখ খুলেছে ওষুধের সুষ্ঠু সরবরাহে জন্য কাজ করে রোগীদের এমন একটি সংস্থা জাস্ট ট্রিটমেন্ট। সংস্থাটির সঙ্গে যুক্ত ডায়ারমেড ম্যাকডোনাল্ড বলেন, “ভাষাসহ এমন আরও অনেক বিষয় রয়েছে, যার কারণে একটি দেশের পক্ষে অভ্যন্তরীণভাবে আরও বেশি টিকা এবং ওষুধ উৎপাদন করা সহজ হয়।
এর মধ্যে এমন উদ্যোগও থাকবে যা অর্থায়নের বিষয়টিকে সহজতর করবে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য এ ধরনের প্রগতিশীল প্রস্তাবগুলো সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে মৃত্যু রোধ করতে এবং মানুষের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে ভ্যাকসিনের ন্যায়সংগত প্রবেশাধিকার অপরিহার্য। ওষুধ নীতি এবং মেধাস্বত্ব আইন বিশেষজ্ঞ এলেন টি’হোয়ান বলেন, বিশ্বব্যাপী ওষুধ প্রস্তুত করার সক্ষমতা রয়েছে প্রয়োজনের তিনভাগের এক ভাগ।
“এসব টিকা ধনী দেশগুলিতে উৎপাদিত হয় এবং সাধারণত ধনী দেশগুলোই তা সংরক্ষণ করে থাকে।” আরও বলেন, “উন্নয়নশীল দেশগুলো বলছে যে তারা এই সুযোগের ভাগ চান, কেবল টিকার অংশই নয়, এই টিকাগুলো উৎপাদন করার অধিকারেরও চেয়েছেন তারা।” একটি টিকা তৈরির জন্য আপনার কেবল পেটেন্ট বা সরঞ্জামের প্রয়োজন তা নয়, উৎপাদনের অধিকারও থাকতে হবে, কীভাবে এটি তৈরি করতে হয় সে সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই পেটেন্টগুলো পাশ কাটিয়ে যাওয়ার এখতিয়ার নেই – তবে তারা টিকা সরবরাহ কীভাবে জোরদার করা যায় তা বের করতে বিভিন্ন দেশকে সমন্বিত করার চেষ্টা করছে। আলোচনার মধ্যে রয়েছে পেটেন্ট পাওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক আইনের বিধান ব্যবহার করা এবং দেশগুলোকে তাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করা। তবে ওষুধ সংস্থাগুলো বলছে, পেটেন্ট রক্ষা করা না গেলে কভিড এবং অন্যান্য যেকোনো রোগের চিকিৎসায় ভবিষ্যতে বিনিয়োগ করার ক্ষমতা বাধার মুখে পড়বে।