বিধানসভায় ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব পেশ করে উপমুখ্যমন্ত্রী বলেন রাজ্যকে উন্নয়নের পথে নিয়ে যাচ্ছে সরকার

স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ১৯ মার্চ।।উপমুখ্যমন্ত্রী তথা অর্থ দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মা আজ বিধানসভায় ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ২২৭২৪ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার ব্যয় বরাদ্দের প্রস্তাব পেশ করেছেন৷ বাজেট বক্তব্যে উপমুখ্যমন্ত্রী ২০২০-২১ অর্থবছরে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন কাজ ও সাফল্য এবং আগামী আর্থিক বছরে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন কাজের প্রস্তাবের কথাও তুলে ধরেছেন৷

আগামী অর্থবছরের জন্য বাজেট পেশ করতে গিয়ে উপমুখ্যমন্ত্রী বক্তব্যের শুরুতেই কোভিড-১৯ অতিমারির কথা তুলে ধরেন৷ উপমুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই বাজেট এমন একটা পরিস্থিতিতে প্রস্তুত করা হয়েছে যখন কোভিড-১৯ অতিমারি সমগ্র বিশ্বকে গ্রাস করেছে এবং যার প্রভাব সমগ্র বিশ্বের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে৷ এর ফলে প্রত্যেক দেশই কম বেশি অর্থনৈতিক মন্দার শিকার হয়েছে৷

বাজেট ভাষণে উপমুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী গরীব কল্যাণ যোজনার মতো প্রকল্প চালু করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র ভাই মোদিকে ধন্যবাদ জানান৷ এই প্রকল্পের আওতায় ৮০০ মিলিয়ন জনগণকে বিনামূল্যে খাদ্যশস্য, ৮০ মিলিয়ন পরিবারকে বিনামূল্যে রান্নার গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে৷ এই অতিমারির সময় ৪০০ মিলিয়নের বেশি ব্যক্তির কাছে সরাসরি অর্থ তুলে দেওয়া হয়েছে৷

আত্মনির্ভর ভারত প্যাকেজ ঘোষণা করার জন্যও তিনি ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানান৷ যেখানে বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার শিকার সেখানে ভারতবর্ষের অর্থনীতির ভারসাম্য বজায় রাখতে আত্মনির্ভর ভারত প্যাকেজ বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে৷

উপমুখ্যমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ সংক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য আমাদের দেশ ইতিমধ্যেই দুটি প্রতিষেধক আবিষ্কার করেছে৷ সমগ্র দেশে টিকাকরণ প্রক্রিয়ার কাজ শুরু হয়েছে৷ অতিমারির পর ভারতে জিডিপি বৃদ্ধির হার নেতিবাচক হবে বলে বিভিন্ন মহল থেকে আশঙ্কা করা হয়েছিল৷

কিন্তু আই এম এফক্ষ্মএর রিপোর্ট অনুসারে ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশের জিডিপি বৃদ্ধির হার ১১.৫০ হবে বলে আশা করা হচ্ছে৷ তাছাড়া অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কোপারেশন অ্যাণ্ড ডেভেলপমেন্টের সমীক্ষা অনুসারে ২০২১-২২ অর্থবছরে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ১২.৬০ গিয়ে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে৷

উপমুখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মা বলেন, অতিমারির সময় সৃষ্ট সমস্যা কাটিয়ে উঠতে রাজ্য সরকার ৫.৭৯ লক্ষ এন এফ এস এ পরিবারকে ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে ১৩,২৪০ এমটি চাল বিনামূল্যে সরবরাহ করেছে৷ এছাড়াও ৫০,০০০ চিহ্ণিত গরীব এপিএল পরিবারকে বিনামূল্যে দুই মাসের নির্ধারিত চাল সরবরাহ করেছে৷

তাছাড়াও মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে প্রতি পরিবারপিছু ১,০০০ টাকা করে এককালীন নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে৷ এ পর্যন্ত ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফারের মাধ্যমে ৪৪,০৯৩ গরীব এপিএল পরিবারের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৪.৪১ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে৷ করোনা

অতিমারির সময়ে যখন কিছু কিছু রাজ্য সরকার কর্মচারীদের কম বেতন দিতে বাধ্য হয়েছে এবং মহার্ঘ্যভাতা স্থগিত রেখেছে সেখানে রাজ্য সরকার কর্মচারী ও পেনশনারদের জন্য ৩ ডি এ / ডি আর দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে, যা ২০২১ সালের ১ মার্চ থেকে কার্যকর হয়েছে৷

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?