২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ২২,৭২৪.৫০ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব পেশ বিধানসভায়

স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ১৯ মার্চ।। উপমুখ্যমন্ত্রী তথা অর্থ দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মা আজ রাজ্য বিধানসভায় ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ২২,৭২৪.৫০ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব পেশ করেছেন৷

বাজেটে নতুন কোন করের প্রস্তাব করা হয়নি৷ বাজেটে ঘাটতি দেখানো হয়েছে ৭৭৩.৪৩ কোটি টাকা৷ কর সংগ্রহের সুুষ্ঠ ব্যবস্থা এবং ব্যয় সঙ্কোচ নীতি গ্রহণের মধ্যদিয়ে এই ঘাটতি মেটানো হবে বলে বাজেট প্রস্তাব পেশ করার পর রাজ্য বিধানসভায় আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে উপমুখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মা জানিয়েছেন৷

সাংবাদিক সম্মেলনে অর্থ দপ্তরের প্রধান সচিব জে কে সিনহা ও সচিব অপূর্ব রায় উপস্থিত ছিলেন৷ ২০২০-২১ সালের বাজেটে ব্যয় বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছিল ১৯,২৪৪.১৫ কোটি টাকা৷ ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে মোট প্রাপ্তির পরিমাণ দেখানো হয়েছে ২১,৯৫১.০৭ কোটি টাকা৷ ব্যয়ের যে পরিমাণ দেখানো হয়েছে তারমধ্যে ২০,০৭৩.২৪ কোটি টাকা রাজস্ব সংক্রান্ত ব্যয় এবং ২,৬৫১.২৬ কোটি টাকা মূলধনী খাতে ব্যয় হবে৷

২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে রাজ্যের নিজস্ব কর বাবদ রাজস্ব সংগ্রহের পরিমাণ ২,৪২১ কোটি টাকা ধরা হয়েছে, যা ২০২০-২১ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট বরাদ্দের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি৷ ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে রাজ্যের কর বর্হিভূত রাজস্ব সংগ্রহের পরিমাণ ৩৪৯.০০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে৷

২০২০-২১ অর্থবছরের সংশোধিত ১১,৯৪৯.৮৮ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দের তুলনায় এই বাজেটে কেন্দ্রীয় সরকার থেকে মোট প্রাপ্তির পরিমাণ (কেন্দ্রীয় করের অংশ এবং ডেফিসিট গ্র্যান্ট মিলিয়ে) ১৫,৫৯৫.০৯ কোটি টাকা ধরা হয়েছে৷ ২০২১-২২ অর্থবছরে মোট ঋণ গ্রহণের পরিমাণ প্রায় ৩,৪৯৩.৯৮ কোটি টাকা ধরা হয়েছে৷ ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে পর্যটন, তথ্য প্রযুক্তি, ক’ষি ও এর সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্র, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা ক্ষেত্রের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে৷

ব্যয় বরাদ্দের প্রস্তাবে অর্থ দপ্তরের পর সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে শিক্ষা দপ্তরের (সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা এবং যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তর সহ) জন্য৷ ঐ দপ্তরের জন্য ৪,১৫২.৬২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে যা মোট বরাদ্দের ১৮.২৭ শতাংশ৷ ৮.৮৯ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে পূর্ত দপ্তরের জন্য৷

স্বরাষ্ট্র দপ্তরের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১,৯৭৮.১২ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৮.৭০ শতাংশ৷ স্বাস্থ্য দপ্তরের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১,৪৪৩.৪৭ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৬.৩৫ শতাংশ৷ পঞ্য়েচাত সহ গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১,৩৫৮.২৪ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৫.৯৮ শতাংশ৷

কোভিড পরবর্তী সময়ে রাজ্যের আর্থিক ব্যবস্থা যাতে চাঙ্গা থাকে সেই লক্ষ্যে এই বাজেটে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে বলে উপমুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন৷ উপমুখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মা আজ ২০২০-২১ সালের অতিরিক্ত ব্যয় বরাদ্দের দাবীও সভায় পেশ করেন৷

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?