অনলাইন ডেস্ক, ১৬ মার্চ।। কোভিড মহামারির তৃতীয় ঢেউয়ে আচ্ছন্ন এখন ইউরোপের অনেকাংশ। এর ফলে টিকা কার্যক্রমে পিছিয়ে থাকা অনেক দেশে সংক্রমণের হার এবং মৃত্যু বাড়ছে। ইউরোপীয় দেশগুলোতে সংক্রমণের হার ফেব্রয়ারির শুরু থেকেই এখন সর্বোচ্চ স্তরে। করোনার নতুন রূপ ছড়িয়ে পড়ার সাথে সা¤প্রতিক বৃদ্ধির অনেকাংশে যোগ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বেশ কয়েকটি দেশ আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কঠোরভাবে নতুন লকডাউন ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিপরীতে যুক্তরাজ্যের বন্ধ দোকান ও স্কুল এবং ক্রীড়া ধীরে ধীরে চালু হতে শুরু করেছে।
ইতালি কর্তৃপক্ষ শুক্রবার প্রায় ২৭ হাজার নতুন সংক্রমণ এবং ৩৮০ জন নিহতের তথ্য রেকর্ড করেছে। এটি গত ২৭ নভেম্বরের পর একদিনের সর্বোচ্চ সংখ্যা। গত সোমবার থেকে বেশিরভাগ ইতালিবাসী লকডাউনে রয়েছেন এবং লোকেরা কেবল প্রয়োজনীয় কাজে বাড়ি থেকে বের হওয়ার অনুমতি পাচ্ছে। বার ও রেস্তোরাঁসহ বেশিরভাগ স্টোর বন্ধ থাকছে। ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী অলিভিয়ার ফেরানড গ্রেটার প্যারিস অঞ্চলের পরিস্থিতিকে উত্তেজনাপূর্ণ এবং উদ্বেগজনক হিসাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ‘প্রতি ১২ মিনিটে একজন করে লোককে ইনটেনসিভ কেয়ার বেডে ভর্তি করা হচ্ছে’। প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁ বিভিন্ন অঞ্চলে কারফিউ এবং সামাজিক বিধিনিষেধ আরোপ করেছেন এবং অনেক চিকিৎসক এখন জরুরি ভিত্তিতে লকডাউনে যেতে চাপ দিচ্ছেন।
জার্মানিতে, গত শনিবার ১২ হাজার ৬৭৪ নতুন সংক্রমণ রেকর্ড হয়েছে। দেশটি এখন করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে রয়েছে। একইভাবে পোল্যান্ডে বুধবার নতুন করে ১৭ হাজার ২৬০ জন সংক্রমিত হয়েছে, যা নভেম্বরের পর থেকে সর্বোচ্চ দৈনিক সংখ্যা। সরকারি কর্মকর্তারা এ সপ্তাহে নতুন বিধিনিষেধ আরোপের ইঙ্গিত দিয়েছেন। পোল্যান্ড ইতোমধ্যে সামাজিক জমায়েতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, বেশিরভাগ স্কুল বন্ধ রয়েছে এবং রেস্তোঁরাগুলো কেবল পার্সেল সরবরাহ করতে পারবে। হাঙ্গেরি এবং চেক প্রজাতন্ত্রও উচ্চ সংক্রমণ ও মৃত্যুর মুখোমুখি। আগামী কয়েক সপ্তাহে পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান।