সর্বশেষ পাঁচ বছর বিশ্বে মোট যত অস্ত্র বিক্রি হয়েছে, তার ৩৭ শতাংশ করেছে দেশটি। মোট ৯৬টি দেশকে অস্ত্র বিক্রি করেছে তারা। আর তাদের অস্ত্রের সব চেয়ে বড় ক্রেতা হলো মধ্যপ্রাচ্য, যা প্রায় অর্ধেক। ২০১৬ থেকে ২০২০ পর্যন্ত সময়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অস্ত্র বিক্রির পরিমাণ বাড়েনি। তার আগের এক দশক ধরে অস্ত্র বিক্রি সমানে বেড়েছে।
এর মূল কারণ চীন ও রাশিয়া থেকে অস্ত্র কেনা কমেছে। রাশিয়ার অস্ত্র বিক্রির পরিমাণ কম হওয়ার কারণ, ভারত সে দেশ থেকে অনেক কম অস্ত্র কিনছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি থেকে অস্ত্র বিক্রির পরিমাণ বাড়লেও সামগ্রিকভাবে অস্ত্র বিক্রির পরিমাণ বাড়েনি। বিশ্বে অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে এক নম্বরে আমেরিকা। এর পর আছে রাশিয়া ও ফ্রান্স। ২০১৬ থেকে ২০২০ সালে মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্র কেনার পরিমাণ তার আগের দশ বছরের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে।
আর সৌদি আরবের অস্ত্র কেনার পরিমাণ ৬১ শতাংশ বেড়েছে। কাতারের অস্ত্র কেনার পরিমাণও বহুগুণ বেড়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে কাছ থেকে ৫০টি এফ ৩৫ জেট কেনার জন্য চুক্তি করেছে। তারা ১৮টি সশস্ত্র ড্রোনও কিনছে। দুই হাজার ৩০০ কোটি ডলার দিয়ে এই অস্ত্র কিনছে আমিরাত। এশিয়া ও ওশিয়ানিয়ার দেশগুলো বেশি অস্ত্র কেনে। গত পাঁচ বছরের মধ্যে অস্ত্রের ৪২ শতাংশ কেনা হয়েছে এখান থেকে।
কিনেছে ভারত, চীন, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও পাকিস্তান। সিপরি-র এক সিনিয়ার গবেষক বলেছেন, এশিয়া, ওশিয়ানিয়ার অনেক দেশই চীনকে বিপদের কারণ বলে মনে করে। তাই তারা অস্ত্র কিনছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, করোনার ফলে অস্ত্র কেনাবেচা কমেছে কিনা, তা বলার সময় এখনো আসেনি। তাদের মতে, করোনা প্রতিটি দেশের অর্থনীতিকে ধাক্কা দিয়েছে। তাই অনেক দেশই হয়তো অস্ত্র কেনার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তবে করোনার প্রকোপ যখন সব চেয়ে বেশি ছিল, তখনো কিছু দেশ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র কেনার জন্য চুক্তি করেছে।