তারা এটাও জানিয়েছেন, এখন দুই সম্প্রদায়ের মানুষ মিলেমিশে আছেন। পোপ খ্রিষ্টানদের বলেছেন, তারা যেন ইরাক ছেড়ে না যান। দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সৌভ্রাতৃত্ব দীর্ঘস্থায়ী হবে। আগের অবস্থা ফিরে পাওয়ার পথ হয়তো অনেক দীর্ঘ। তবু পোপের আবেদন, “হতাশ হবেন না। ক্ষমা করার মনোভাব খুবই জরুরি। আর হাল ছেড়ে দেবেন না।” মোসুলের ওল্ড সিটিতে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া বাড়ি, চার্চ ঘুরে দেখেন পোপ। পোপ বলেন, “এই দেশে অতীতে সভ্যতার বিকাশ হয়েছিল। সেখানে এই ধরনের বর্বরোচিত কাজ মেনে নেওয়া যায় না।
মুসলিম, খ্রিষ্টান, ইয়াজদি ও অন্যরা মারা গেছেন, ঘরছাড়া হয়েছেন, তাদের উপাসনাস্থল ধ্বংস হয়েছে।” “আজ আমি বলতে পারি, সৌভ্রাতৃত্বের প্রতি দায়বদ্ধতা বেড়েছে। এটাও মানুষ বুঝেছে, যুদ্ধ ও ধ্বংসের থেকে শান্তি অনেক বেশি কাম্য।” ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যের খ্রিষ্টানদের কাছে পোপের আবেদন, তারা যেন নিজেদের জায়গায় থাকেন। ছেড়ে চলে না যান। বিশেষ করে উত্তর ইরাকের কথা মাথায় রেখে তিনি এই আবেদন করেছেন। এখানে আইএসের হাতে খ্রিষ্টানরা অত্যাচারিত হয়েছেন। পোপ বলেন, ইরাকের যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকা থেকে খ্রিষ্টানরা অনেকে চলে গেছেন।
এর ফলে ওই এলাকায় যারা থাকলেন, তাদের এবং সমাজের প্রভূত ক্ষতি হয়েছে। আইএসের আক্রমণের ফলে উত্তর ইরাকের হাজার হাজার খ্রিষ্টান পালাতে বাধ্য হয়েছেন। আগে ইরাকে চার লাখ খ্রিষ্টান ছিলেন। ২০১৩ সালে সেটা কমে দাঁড়ায় দেড় লাখে। ২০১৪ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত মোসুল আইএসের অধিকারে ছিল। ইরাকি বাহিনীকে এই শহর পুনরুদ্ধার করতে অনেক লড়তে হয়েছে। তখন প্রচুর চার্চ, মসজিদ ধ্বংস হয়।