সুস্থ সন্তান পেতে শারীরিক সম্পর্কের আগে এই ১০ নিয়ম অবশ্যই মেনে চলুন

অনলাইন ডেস্ক, ২৮ ফেব্রুয়ারী।। 3-4 minutes কর্মব্যস্ত এই জীবনে নারী-পুরুষ সবাই ক্যারিয়ারের পিছনে ছুটছে।আজকাল অবশ্য বিয়ের বয়স নারীরাও অনায়াসে টেনে নিয়েছে ৩০-এর কোঠায়।ফলে বিয়ের পর পরিবার পরিকল্পনায় স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা দেরি হয়। আর এই দেরির হাত ধরেই আসে অনেক রকমের জটিলতা। ভা’রতীয় স্ত্রী’রোগ বিশেষজ্ঞ মা’র্থা হাজরার মতে আজকাল গর্ভস্থ শি’শুর জেনেটিক অসুখ প্রতিরোধে বিশেষ ইঞ্জেকশন বেরিয়েছে, যা প্রসূতিকে দেয়া হয়।

এছাড়াও প্রি প্রেগন্যান্সি কাউন্সেলিংয়ের হাত ধরে পরিবার পরিকল্পনা করলে প্রথম থেকেই কিছু জরুরি বিষয়ে সচেতন হওয়া যায়। প্রাথমিক বিপদ অনেকটা কাটানো যায়। জেনে রাখা ভাল, সুস্থ সন্তান পেতে গেলে কী কী করবেন, কী কী কাজে থাকবে নিষেধাজ্ঞা- রইল সে সবের। ১) থ্যালাসেমিয়া স্ক্রিনিং- বিয়ের আগেই রক্ত পরীক্ষা করানোর কথা নানা ভাবেই প্রচারিত। অবশ্যই বিয়ের সময় এই পরীক্ষা করান।

এইচআইভির সঙ্গে থ্যালাসিমিয়ার জন্যও এই পরীক্ষা খুব প্রয়োজনীয়। ২) পিসিওডি- এটি মূলত লাইফস্টাইল ডিজিজ। বেশির ভাগ মেয়ের ক্ষেত্রেই খাওয়াদাওয়ার অনিয়মে রাশ টানলে, বাইরের ভাজাভুজি কম খেলে, একটি নির্দিষ্ট ও স্বাস্থ্যকর ডায়েট মানলে এই অসুখ পালায়। ৩) কিন্তু বাড়াবাড়ি রকমের সমস্যায় তা থেকে প্রস্রাবে সংক্রমণ চলে আসতে পারে। গর্ভধারণেও সমস্যা হতে পারে, তাই মেদ ঝরিয়ে নিজেরকে ঝরঝরে করে রাখার পাশাপাশি এই অসুখ থাকলে একটু নিয়ম মেনে চলুন। ৪) ফার্টাইল পিরিয়ড মিথ- পিরিয়ড শুরু এক সপ্তাহ আগে ও শেষ হওয়ার পর ১০ দিন হল ফার্টাইল পিরিয়ড।

এমনিতে ফার্টাইল পিরিয়ডে নিয়মিত শারীরিক সুস্থ সম্পর্কের পরাম’র্শ দেয়া হয়।তবে আধুনিক চিকিসাবিজ্ঞানে বলা হয় আদর্শ ফার্টাইল পিরিয়ড বলে সে অর্থে কিছু হয় না। সাধারণত একটি নির্দিষ্ট সময়কে এমন ধরা হলেও শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী এই নিয়ম কিছুটা বদলায়।অনেকেরই পিরিয়ড অনিয়মিত হয়। তেমনটা হলে চিকিৎসকের পরাম’র্শ প্রয়োজন। রক্তের সিরাম এলএইচ মেপে বা আলট্রাসাউন্ড করে চিকিৎসক জানাতে পারবেন কখন ডিম্বাণু বের হবে। সেই বুঝে শারীরিক সম্পর্কের দরকার পড়বে। ৫) অ্যানিমিয়ার চিকিৎসা- হবু মায়ের অ্যানিমিয়া থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরাম’র্শ নিন। বাজারচলতি আয়রন ক্যাপসুল না খাওয়াই বাঞ্ছনীয়। কাজেই আন্দাজে না এগিয়ে, চিকিৎসকের পরাম’র্শ মেনে তবেই রক্তাল্পতার সঙ্গে লড়াই করুন।

৬) চিকেন পক্সের স্ক্রিনিং- ভেরিসেলা বা চিকেন পক্সের স্ক্রিনিং করান। রোগের প্রতিরোধ কম থাকলে প্রতিষেধক দেয়ার পর তবেই আসবে গর্ভধারণের প্রশ্ন। না হলে গর্ভপাত, সময়ের আগে প্রসব ও সন্তানের জন্মগত ত্রুটি থাকার শঙ্কা থাকে। তবে অধিকাংশ নারীরই এই রোগের বিরুদ্ধে জোরদার প্রতিরোধ থাকে। কী করবেন না- ১) জিরো জাঙ্ক- আধুনিক গবেষণা জানান দিয়েছে, অতিরিক্ত পরিমাণে জাঙ্ক ফুড শুক্রাণু ও ডিম্বাণুরও ক্ষতি করে।তাই ওভা’রির কার্যকারিতা বাড়াতে ও মেদবাহুল্য কমিয়ে শুক্রাণুকেও সক্রিয় করে তুলতে জাঙ্ক ফুড ও ঠান্ডা জলকে বাদ দিন।

২) মদ-সিগারেট- জাঙ্ক ফুডের মতোই মদ-সিগারেট খেলে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা খুব বেশি। কাজেই নেশা ছাড়ার চেষ্টা করুন। শুধু ধূমপান নয়, সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে অতিরিক্ত টেনশনও। ৩) যৌন রোগ- স্বামী বা স্ত্রী, জিনঘটিত কারণে কারো কোনো রকম যৌন অসুখ থাকলে অবশ্যই গর্ভধারণের আগেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ৪) অন্য অসুখ- উচ্চমাত্রায় ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ওবেসিটি এসব গর্ভসঞ্চারের পথে বাধা দেয়। তাই প্রয়োজনীয় ওষুধ, ডায়েট ও শরীরচর্চার মাধ্যমে অসুখ ও মেদ সব কিছুকেই নিয়ন্ত্রণে রাখুন। হাইপারটেনশনের রোগী হলে অবশ্যই মনোবিদের পরামর্শ নিয়ে মন শান্ত রাখু’ন। অসুখ অবহেলা একেবারেই নয়।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?