করোনা মোকাবিলায় চিকিৎসক সহ স্বাস্থ্যকর্মীগণ দৃঢ়তার সাথে কর্তব্য পালন করেছেন : মুখ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ২৭ ফেব্রুয়ারী।। সীমাবদ্ধ ক্ষমতা ও পরিকাঠামোর মধ্যেও যে ভালো কিছু করা যায় তা করোনা মোকাবিলার ক্ষেত্রে ত্রিপুরা করে দেখিয়েছে৷ রাজ্যে করোনা মোকাবিলায় চিকিৎসক সহ স্বাস্থ্যকর্মীগণ প্রথমসারির যোদ্ধা হিসেবে দৃঢ়তার সাথে কর্তব্য পালন করেছেন৷

আজ সোনারতরী হোটেলে হেডলাইন্স ত্রিপুরা আয়োজিত করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রথম সারির যোদ্ধা হিসেবে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী দেশ-বিদেশ এবং রাজ্যের প্রখ্যাত চিকিৎসকদের চিকিৎসারত্ন সম্মান অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব একথা বলেন৷

তিনি আরও বলেন, করোনার বিরুদ্ধে দেশবাসী যে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন তা এখনও শেষ হয়নি৷ তাই আমাদের সকলকে এখনও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে৷ দেশে করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধকালীন সময়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী প্রধান সেনাপতি হিসেবে দেশবাসীকে উৎসাহ প্রদান করে গেছেন৷ প্রধানমন্ত্রীর মার্গ দর্শনেই দেশে করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী স্বচ্ছভারত অভিযান কর্মসূচি চালু করেছিলেন৷ যা দেশকে বিশ্বের কাছে সুুপরিচিতি দিয়েছে৷ স্বচ্ছভারত অভিযান কর্মসূচির মাধ্যমেই তিনি দেশের প্রতিটি বিদ্যালয়ে শৌচালয় স্থাপনের উপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন৷

শুধু তাই নয় করোনা অতিমারির সময়ে স্থানীয়দের উৎসাহ প্রদানে ভোকাল ফর লোকাল আহ্বান রেখেছিলেন৷ এর মাধ্যমে দেশবাসীর মধ্যে স্বনির্ভর মানসিকতা তৈরী হয়েছে৷ প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে রাজ্যের জনগণের মধ্যেও আত্মনির্ভর মানসিকতা তৈরী হয়েছে৷ প্রধানমন্ত্রী দেশের মহিলাদের স্বশক্তিকরণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন৷এরমধ্যে একটি অন্যতম হল তিন তালাক প্রথা বন্ধ করা৷

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরা ছোট রাজ্য হলেও করোনা মোকাবিলায় যথেষ্ঠ পারদর্শিতা দেখিয়েছে৷ এরজন্য রাজ্যের চিকিৎসকসহ সকল স্বাস্থ্যকর্মীদের ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী৷ তিনি বলেন, করোনাকালীন সময়ে আমাদের প্রত্যেকের মধ্যেই পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন থাকার যে অভ্যাস তৈরী হয়েছে তা সবসময় বজায় রাখতে হবে৷

করোনা অতিমারির সময়েও রাজ্যের অর্থনৈতিক অগ্রগতি বাধাপ্রাপ্ত হয়নি৷ এই সময়ে রাজ্যের রাজস্ব আদায়ও ভালো হয়েছিল৷ রাজ্য সরকার রাজ্যের অর্থনৈতিক গতিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে৷ সাবমে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হলে ত্রিপুরা উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির জন্য বিজনেস হাবে পরিণত হবে৷ সরকার সেই দিশায় কাজ করছে বলে মুখ্যমন্ত্রী প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন৷

অনুষ্ঠানে মহারাজা প্রদ্যোৎ কিশোর দেববর্মণ বলেন, রাজ্যে করোনা মোকাবিলায় চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী সহ আরক্ষাকর্মী সকলেই একজোট হয়ে লড়াই করেছেন৷ ফলে সহজেই আমরা করোনা মোকাবিলা করতে পেরেছি৷ কোলকাতার বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. কুনাল সরকার বলেন, চিকিৎসকরা সব সময়ই মানুষের সংস্পর্শ ও ভালোবাসা চায়৷ করোনা মোকাবিলায় ছোট রাজ্য ত্রিপুরা যে ভূমিকা নিয়েছে তা সারা দেশের কাছেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে৷

হেডলাইন্স ত্রিপুরার এডিটর প্রণব সরকার তার ভাষণে বলেন, করোনা মোকাবিলার ক্ষেত্রে দেশ-বিদেশের পাশাপাশি রাজ্যের চিকিৎসকরাও দিনরাত পরিষেবা দিয়েছেন৷ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বলিষ্ঠ প্রচেষ্ঠায় করোনাকে দৃঢ়তার সাথে রাজ্যবাসী মোকাবিলা করেছেন৷ করোনাকালীন সময়ে সংবাদকর্মীরাও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি সংগঠিত করেছিলেন৷

অনুষ্ঠানে এছাড়াও বক্তব্য রাখেন দেশের বিশিষ্ট ক্রিকেটার সম্বরণ ব্যানার্জী, বিবেকনগরস্থিত রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী শুভকরানন্দ মহারাজজী, বাংলাদেশ থেকে আগত বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. বিদ্যত বড়য়া প্রমুখ৷

অনুষ্ঠান মঞ্চে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী জায়া নীতি দেব, পদ্মশ্রী দীপা কর্মকার, খুদে দাবারু আর্শিয়া দাস৷ করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রথম সারির যোদ্ধা হিসেবে অগ্রণী ভূমিকা নেওয়ার জন্য দেশ-বিদেশ এবং রাজ্যের ১৩ জন চিকিৎসককে চিকিৎসারত্ন সম্মান প্রদান করা হয়৷ বিশেষ সম্মান প্রদান করা হয় ৩ জন চিকিৎসককে৷ অনুষ্ঠানে এছাড়াও বিভিন্ন স্বাস্থ্যসংস্থা ও সামাজিক সংগঠনকে করোনা মোকাবিলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়ার জন্য সম্মাননা প্রদান করা হয়৷

https://www.facebook.com/watch/?v=437357597604298

সম্মাননা প্রাপকদের হাতে মারক উপহার তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব সহ অন্যান্য অতিথিগণ৷ চিকিৎসারত্ন সম্মান পেয়েছেন ডা. কুনাল সরকার, (কলকাতা), ডা. অরুণা তাতিয়া (পশ্চিমবঙ্গ), ডা. দেবশিস দণ্ড (ভেলোর), ডা. জয়া দেববর্মণ (দিল্লি), ডা. শুভ্রজ্যোতি ভৌমিক (পশ্চিমবঙ্গ), ডা. কিশোলয় দত্ত (দিল্লি), ডা. দিব্যান্স গুলাটি (লণ্ডন), ডা. বিদ্যৎ বড়য়া (বাংলাদেশ), ডা. সালাহ আহমেদ তুষার (বাংলাদেশ) এবং ত্রিপুরার ডা. প্রদীপ ভৌমিক, ডা. তপন মজমদার, ডা. সঙ্গীতা চক্রবর্তী ও আমেরিকার ডা. পর্ণালী ধর চৌধুরী৷ বিশেষ সম্মান পেয়েছেন ডা. কণক চৌধুরী, সুুদীপা চন্দ্র ও চান্দী দেববর্মা৷ বিশেষ মারক প্রদান করা হয়েছে ডা. সৌমিত্র ভরদ্বাজ ও ডা. অনুপ ভক্তকে৷

অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন কোলকাতার বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী লোপামুদ্রা মিত্র৷ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বিধানসভার উপাধ্যক্ষ বিশ্ববন্ধ সেন’র লেখা ’হৃদয়ের অব্যক্ত কথা’ বইটির আবরণ উন্মোচন করেন৷

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?