স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ২৬ ফেব্রুয়ারী।। পট্রোল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রতিদিন লোকসান হচ্ছে বাস মালিকদের৷ বৃহস্পতিবার বাস মালিকদের সংগঠন নাগেরজলা-সোনামুড়া বাস মালিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে শুক্রবার থেকে যাত্রী পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো৷
কিন্তু পরক্ষণেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ভাড়া বৃদ্ধি করা হবে বলে মৌখিক আশ্বাস পেয়ে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে অ্যাসোসিয়েশন৷ শুক্রবার বাস মালিকদের ধর্মঘট কিংবা বাস ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের ব্যাপারে পরিবহন মন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবারই মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাস ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব পাস করা হয়েছে৷
তিনি জানান, যেখানে মন্ত্রিসভা বাস ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিয়েছে সেখানে গতকালই বিকালে আচমকা কি কারণে বাস মালিকরা যাত্রী পরিষেবা বন্ধের সিদ্ধান্তের কথা সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়ে দিলো তা বোধগম্য হচ্ছে না৷ তিনি বলেন, রাজ্য সরকার পেট্রোল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে যানবাহন মালিকদের বিশেষ করে বাস মালিকদের যে লোকসান হচ্ছে তা আঁচ করতে পেরেই মন্ত্রিসভায় বাস ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওা হয়৷ তবে কি পরিমাণ ভাড়া বৃদ্ধি করা হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি৷ মন্ত্রী প্রণজিৎ সিং রায় বলেন, সরকারও চাইছে ভাড়া বৃদ্ধি হোক৷
বিগত বাম সরকারের আমলে ছয় বছর ধরে ভাড়া বৃদ্ধি করেনি৷ কিন্তু তা সত্বেও বাস মালিকরা নিজেদের মর্জিমাফিক বাস ভাড়া বৃদ্ধি করে যাত্রীদের পকেট কেটেছিলো৷ বর্তমান সরকার চাইছে বাস মালিকরা যাতে নিজে থেকে এই ধরনের ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত না নেয়৷ তাই রাজ্য সরকারই এই ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ জানা গেছে ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের বিষয়টি কিন্তু কিছুটা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার৷
কেননা, এই ক্ষেত্রে যেমন কিলোমিটারের বিষয়টি মাথায় আনতে হবে তেমনি ভাবে বড় গাড়ি (বাস) এবং ছোট গাড়ির ক্ষেত্রেও ভাড়া কিন্তু হবে পৃথক পৃথক৷ তাই সমস্ত কিছু হিসাব করেই রাজ্য সরকার এই ভাড়া বৃদ্ধির পথে হাঁটতে চলেছে৷ প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত ৬ ফেব্রুয়ারি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ পরিবহন মন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়কে চিঠি দিয়ে ভাড়া বৃদ্ধির আবেদন জানানো হয়েছিলো৷
কিন্তু বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১৫দিন সময়সীমা অতিক্রম করার পরও রাজ্য সরকার তাদের আবেদনে কর্ণপাত করেনি বলে জানানো হয়েছে অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে৷ তাই বৃহস্পতিবার বিকালে সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে ঘোষণা দেওয়া হয় যে ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে তারা যাত্রী পরিষেবা বন্ধ রাখবে৷ অ্যাসোসিয়েশনের বক্তব্য, এমনিতেই করোনার কারণে দীর্ঘদিন যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় তাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে৷
তার উপর এই জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি বহন করা কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ এই ক্ষেত্রে তাদের যাত্রী পরিষেবা বন্ধ রাখা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিলো না৷ যদিও বৃহস্পতিবার বিকালে পরিবহনমন্ত্রীর কাছ থেকে ভাড়া বৃদ্ধির মৌখিক আশ্বাস পাওয়ায় তারা যাত্রী পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে রাজ্য সরকারকে ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়৷