মিস ইন্ডিয়া প্রতিযোগিতায় তার নাম অন্তর্ভূক্ত হয়ে গেছে। সামনে সোনালী স্বপ্নের হাতছানি। কিন্তু তার মাঝখানে পড়তে হয়েছে একটি সমস্যার মধ্যে। প্রত্যয়ে রাউন্ড এর জন্য চাই আলাদা আলাদা পোশাক। স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যেক পোশাকের জন্য খরচ বিশাল। অতি সাধারণ ঘরের সুস্মিতা সেন কিভাবে কাটিয়ে উঠলেন এই বাধা বিপত্তি, সেই গল্পটাই আজকে আপনাদের বলব। মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে ছিলেন সুস্মিতা সেন।
জীবনে বড় কিছু করার ইচ্ছা ছিল তার। নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে তিনি গিয়েছিলেন মিস ইন্ডিয়ার মঞ্চে। এই মঞ্চ থেকেই তিনি নিজের সমস্ত স্বপ্ন পূরণ করতে চেয়ে ছিলেন। সুস্মিতা সেনের বাবা সুবীর সেন ছিলেন একজন ভারতীয় বিমান বাহিনীর প্রাক্তন কমান্ডার, এবং মা শুভ্রা সেন ছিলেন অলংকার ডিজাইনার।
অতি সাধারণ পরিবারের মেয়ে সুস্মিতা স্বপ্নকে ধরতে ছুটে গেলেও বাস্তবে কিন্তু তা সফল করতে খুবই কষ্ট পেয়েছেন তিনি। এই সফলতা খুব সহজে তার কাছে ধরা দেয়নি। একটি সাধারন পরিবারের চারটে দামি পোশাক কেনা তখনকার সময়ে খুব বিশাল ব্যাপার ছিল। কোনরকমে তিনটি রাউন্ড পেরিয়ে যাবার পর যখন পালা এলো চতুর্থ রাউন্ডের, তখন আরও একটি নতুন পোশাকের দরকার পড়ল তার।
কিন্তু সেই সময় এত দামি পোশাক কেনার উপায় ছিল না তার। উপায় না পেয়ে সুস্মিতার মা খুবই সাধারণ দোকান থেকে একটি কাপড় কিনে আনেন। সুস্মিতার বাড়ির নিচে একটি গ্যারেজে দর্জি ছিলেন, যিনি সমস্ত রকম জামা কাপড় বানাতে পারতেন। সুস্মিতার মা সেই দর্জির কাছে গিয়ে কাপড় দিয়ে গাউন বানানোর জন্য। দর্জিকে বলেলেন এমন একটি গাউন বানিয়ে দিতে, যা টিভিতে দেখানো যাবে।
দর্জি মনের মত করে গাউনটি বানিয়ে দিলেন। বুকের কাছে দিলেন কাপড় এবং জরি দিয়ে সুন্দর সুন্দর গোলাপ। দর্জি গাউন টি বানিয়ে দিলেও বাকি কাজ সুস্মিতার মাই করে দিয়েছিলেন। অবশেষে মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে সুস্মিতা চতুর্থ রাউন্ডে উঠেন।
অবশেষে সকলকে তাক লাগিয়ে শিরোপার খেতাব জিতে নেন সুস্মিতা সেন। ভারতবর্ষের তিনি একমাত্র অবিবাহিত সুন্দরী যিনি বিয়ে না করেও দুই কন্যার মা।যিনি চোখে আঙ্গুল দিয়ে সকল কে দেখিয়ে দিয়েছেন যে, গর্ভবতী না হয়েও মা হওয়া যায়। একজন ভালো মনের মানুষ হিসেবে সারা জীবন আমাদের মনে জায়গা করে রাখবেন তিনি।