ক্ষুদ্র ও ছোট শিল্প স্থাপনের উপর মুখ্যমন্ত্রীর গুরুত্ব আরোপ

স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ২৪ ফেব্রুয়ারী।। রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও ছোট শিল্প স্থাপনের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব৷ আজ সচিবালয়ের ২নং সভাকক্ষে শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের পর্যালোচনা সভায় মুখ্যমন্ত্রী এই অভিমত ব্যক্ত করেন৷

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে শিল্পের প্রসার ও বিকাশে সরকারের যে দিশা ও লক্ষ্য রয়েছে তার সফল বাস্তবায়নে শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরকে আরও গতিশীল হতে হবে৷ পাশাপাশি বর্তমানে রাজ্যে শিল্প স্থাপনের যে অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে তাকে কাজে লাগিয়ে রাজ্যে শিল্প স্থাপনে উদ্যোগীদের উৎসাহ প্রদান করতে হবে৷

সভায় মুখ্যমন্ত্রী শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পের পর্যালোচনা করে বলেন, রাজ্যে বাঁশের তৈরি বোতল এবং কনটেইনারকে দেশ-বিদেশে বাজারজাতকরণের লক্ষ্যে দপ্তরকে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করে কাজ করতে হবে৷ তিনি বলেন, বাঁশের তৈরি বোতল সহ অন্যান্য সামগ্রী উৎপাদনে গুণগতমান বজায় রাখতে শিল্পীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন৷

’মুখ্যমন্ত্রী আগরবাতি আত্মনির্ভর মিশন’ প্রকল্পে রাজ্যে আগরবাতি উৎপাদন ব’দ্ধির উপর শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরকে পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে হবে৷ আগরবাতি শিল্প স্থাপনে বহির্রাজ্যের উদ্যোগীদের উৎসাহিত করতে হবে৷ সভায় শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের অধিকর্তা রাভেল হেমেন্দ্র কুমার জানান, ২০২০ সালের ১৪ আগষ্ট অনলাইন সিঙ্গেল উইণ্ডো ’স্বাগত’ নামে পোর্টাল চালু করা হয়েছিল৷

এখন পর্যন্ত এই পোর্টালের মাধ্যমে ৫৭৮টি শিল্প সংস্থার রেজিষ্ট্রেশন হয়েছে৷ তাছাড়া আরও ১৫৫টি শিল্প সংস্থার আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে৷ রাজ্যে টেস্টিং ল্যাব স্থাপনের লক্ষ্যে ফুড সেফটি এণ্ড স্ট্যাণ্ডার্টস অথরিটি অব ইণ্ডিয়ার কলকাতাস্থিত আঞ্চলিক অফিসের অধিকর্তার সাথে গত বছরের ৫-৭ নভেম্বর সভা অনুষ্ঠিত হয়৷

সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে রাজ্যের ফুড টেস্টিং ল্যাবে ফুড অ্যানালিস্ট, মাইক্রো বায়োলজিস্ট এবং অন্যান্য স্টাফ নিয়োগ করা হবে৷ আগরতলাস্থিত রিজিওন্যাল ফুড টেস্টিং ল্যাবকে ন্যাশনাল অ্যাক্রেডিটেশান বোর্ড ফর টেস্টিং এণ্ড ক্যালিবেশান ল্যাবরেটরিজের অনুমোদন পাওয়ার কাজটি দ্রত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷

এছাড়াও স্টেট টেস্টিং ল্যাব-এ নতুন মেশিন স্থাপন করা হবে৷ তিনি জানান, আগরবাতি শিল্পের উন্নয়নের লক্ষ্যে গত ২০২০ সালের ১৫ আগষ্ট ’মুখ্যমন্ত্রী আগরবাতি আত্মনির্ভর মিশন’ নামে একটি নতুন প্রকল্প চালু হয়েছে৷ এই প্রকল্পে ন্যাশনাল ব্যাম্ব মিশনের অধীনে ৫০০টি হোমস্টেড স্ট্রিপ মেকিং ইউনিট স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে৷

আগরবাতি শিল্পর সাথে যুক্ত কারিগরদের টুল কিট প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে৷ ’প্রধানমন্ত্রী এমপ্লয়মেন্ট জেনারেশন প্রোগ্রাম’ এবং ’স্বাবলম্বন’ প্রকল্পে ৫০০টি হোমস্টেড রাউণ্ড স্টিক মেকিং ইউনিট স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে৷ এছাড়াও ন্যাশনাল ব্যাম্ব মিশনের অধীনে ৫টি আগরবাতি ম্যানুফেকচারিং ইউনিট স্থাপন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে৷

বাঁশের বোতল তৈরীর সাথে যুক্ত শিল্পীদের দক্ষতা আরও উন্নয়নের লক্ষ্যে ন্যাশনাল ব্যাম্বো মিশন অধীন ব্যম্ব এণ্ড ক্যান ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে  ৬২৫ জন কারিগরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে৷ রাজ্যে বর্তমানে ১০টি সংস্থা বাঁশের বোতল তৈরীর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে৷ অধিকর্তা আরও জানান, রাজ্যে প্যাকেজিং শিল্পকে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নিয়েছে দপ্তর৷

এই লক্ষ্যে রাজ্যের স্ব-সহায়ক দলের সদস্যদের প্যাকেজিং শিল্পের উপর দক্ষতা ব’দ্ধির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে৷ তিনি জানান, রাজ্যে বর্তমানে ৮৩ হাজার ৭০১ হেক্টর এলাকায় রাবার চাষ হচ্ছে৷ মোট রাবার উৎপাদন হচ্ছে ৮৫ হাজার ৪৫৩ মেট্রিকটন৷ রাজ্যে গুণগত রাবার শিট তৈরীর লক্ষ্যে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷ এরজন্য ৫০০ আধুনিক মোক হাউজ/রাবার প্রসেসিং ইউনিট স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে৷

ইতিমধ্যেই বোধজংনগরে একটি আধুনিক মোক হাউজ স্থাপন করা হয়েছে৷ এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গুণগত রাবার শিট তৈরীর লক্ষ্যে আধুনিক মোক হাউজ ইউনিট স্থাপনের যে লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে তা দ্রত রূপায়ণের উপর দপ্তরকে গুরুত্ব দিতে হবে৷ কারণ গুণগত রাবার শিট তৈরি হলে সঠিক মূল্য যেমন পাওয়া যাবে তেমনি এর চাহিদাও বৃদ্ধি পাবে৷

পর্যালোচনা সভায় শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের অধিকর্তা আরও জানান, রাজ্যে শিল্প পরিকাঠামো উন্নয়নে ২০২০-২১ অর্থবর্ষের জানুয়ারী পর্যন্ত ১৬টি ইউনিট স্থাপনের জন্য জমি/শেড বন্টন করা হয়েছে৷ বোধজংনগরে একটি ডায়েরী ইউনিট এবং একটি রাবার ইউনিটকে পুনরায় চালু করা হয়েছে৷

ত্রিপুরা শিল্প উন্নয়ন নিগমের স্বাগত পোর্টালের মাধ্যমে জমি বন্টনের জন্য ২৩টি আবেদন পত্র জমা পড়েছে৷ ইতিমধ্যেই ৭টি ইউনিটকে জমি বন্টন করা হয়েছে৷ এছাড়াও বোধজংনগর এবং আর কে নগর শিল্পাঞ্চলে সিসি টিভি ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু হয়েছে৷ তিনি জানান, জাতীয় ব্যাম্বো মিশনে বাঁশের চারা উৎপাদনের জন্য ৩৪টি নার্সারিকে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে৷

বাঁশ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত শিল্পীদের দক্ষতা ব’দ্ধির লক্ষ্যে ৩১টি ট্রেনিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে ৮৯৬ জন শিল্পীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে৷ অধিকর্তা আরও জানান, রাজ্যে বর্তমানে ১৯টি শিল্প প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (আই টি আই) রয়েছে৷ ইন্দ্রনগরের মহিলা শিল্প প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটিকে মডেল আই টি আই-এ রূপান্তর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে৷

সভায় এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী এমপ্লয়মেন্ট জেনারেশন প্রোগ্রাম, স্বাবলম্বন ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করেন দপ্তরের অধিকর্তা রাভেল হেমেন্দ্র কুমার৷ সভায় হস্ততাঁত, হস্তকারু এবং রেশম শিল্প দপ্তরের সচিব সি কে জমাতিয়া জানান, হস্ততাঁতের ৬১টি ক্লাস্টারে ২৪ হাজার ৯০৯ জন হস্ততাঁত শিল্পী, হস্তকারু শিল্পের ১৯টি ক্লাস্টারে ৪ হাজার ৯ জন শিল্পী এবং রেশম বয়ন শিল্পের ২১টি ক্লাস্টারে ১৫ হাজার ৫০০ বয়নশিল্পী যুক্ত রয়েছেন৷

দপ্তরের মাধ্যমে রাজ্যের অঙ্গনওয়াড়ী কর্মী এবং হেল্পারদের জন্য ২৩ হাজার ৯২টি  শাড়ি এবং ১৬ হাজার ৪৬৮টি পাছড়া সরবরাহ করা হয়েছে, ১৩টি গ্রপ ওয়ার্ক শেড নির্মাণ করা হয়েছে, ১টি সিল্ক প্রসেসিং এণ্ড প্রিন্টিং ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে, ১৪২০ একর তন্তুচাষ করা হয়েছে এবং  ইন্দ্রনগরে একটি সেন্টার অব এক্সিলেন্স স্থাপন করা হয়েছে৷

ন্যাশনাল হ্যাণ্ডলুম ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামে ২০০ জনকে দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, ৭১ জন বয়ন শিল্পীকে লোম এবং যন্ত্রপাতি প্রদান করা হয়েছে৷ নর্থ-ইস্ট টে’টাইল প্রমোশন প্রকল্পে তন্তুচারা উৎপাদনের জন্য ১৬টি কিষাণ নার্সারি তৈরী করা হয়েছে এবং রেশমগুটি পালনের জন্য ৩৮০টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে৷ হস্ততাঁত, হস্তকারু এবং রেশম শিল্পের উৎপাদিত সামগ্রীর গুণগতমান বজায় রাখার উপর সভায় গুরুত্ব আরোপ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

পর্যালোচনা সভায় মুখ্য সচিব মনোজ কুমার, অর্থ দপ্তরের প্রধান সচিব জে কে সিনহা, শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের সচিব প্রশান্ত কুমার গোয়েল, স্কিল ডেভেলপমেন্টের অধিকর্তা ড: সন্দীপ এন মাহাত্মে এবং দপ্তরের অন্যান্য আধিকারিকগণ উপস্থিত ছিলেন৷

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?