স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ২১ ফেব্রুয়ারি।। রাজ্যের শিক্ষক-কর্মচারীদের পাশাপাশি সমস্ত অংশের মানুষের প্রতি সরকারের বঞ্চনার প্রতিবাদ আগামী দিন ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলবে ত্রিপুরা কর্মচারী সমন্বয় কমিটি৷ রবিবার আগরতলা জগন্নাথ বাড়ি সংলগ্ণ এলাকায় দ্বিগবিজয় ভবনে সমন্বয় কমিটির রাজ্য সম্মেলনে গৃহীত হয় এই সিদ্ধান্ত৷ সম্মেলন থেকে সংগঠনের আগামী দিনের কাজকর্ম পরিচালনার জন্য নতুন কমিটি গঠনের পাশাপাশি আগামী দিনের আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন নেতৃত্বরা৷
করোনার কারনে নির্ধারিত সময়ে সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার অন্যতম দলীয় কর্মসূচি রাজ্য সম্মেলন করা সম্ভব হয়নি ত্রিপুরা কর্মচারী সমন্বয় কমিটির৷ তাই খানিকটা দেরিতে অর্থাৎ এক বছর পিছিয়ে অবশেষে সংগঠনের ৫৩ তম বর্ষে চতুর্দশ রাজ্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় রবিবার৷ রাজধানী আগরতলার জগন্নাথ বাড়ি সংলগ্ণ এলাকায় অবস্থিত দ্বিগবিজয় ভবনে আয়োজিত হয় এদিনের সম্মেলন৷ এদিনের সম্মেলনে দেশ ও রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে যেমন নেতৃত্ব আলোচনা করেন, তেমনি রাজ্যের কর্মচারী সমাজ ও সাধারণ মানুষের প্রতি রাজ্য সরকারের বঞ্চনার অভিযোগ নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে৷
সম্মেলনে এদিনের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আগামী দিনের আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে বলে জানালেন নেতৃত্বরা৷৷ এদিনের এই সম্মেলন থেকে আওয়াজ উঠেছে ১০৩২৩ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের স্থায়ী চাকুরির ব্যবস্থা অবিলম্বে করতে হবে, অবিলম্বে সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ১৭ শতাংশ ডি এ প্রদান করতে হবে, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মোতাবেক সপ্তম পে কমিশনের ন্যায় সমস্ত ভাতা প্রদান সহ নানাবিধ কর্মচারী স্বার্থ সম্বলিত দাবিগুলো পূরণ করার দাবি উঠেছে এদিনের এই সম্মেলনে৷
অপরদিকে একদিনের এই রাজ্য সম্মেলন থেকে সংগঠনের আগামীদিনের কাজকর্ম পরিচালনার জন্য নতুন কমিটি গঠন করা হয়৷ কর্মচারী সমন্বয় কমিটির শীর্ষ নেতৃত্ব অঞ্জন রায় চৌধুরী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিযোগের সুরে বলেন,শিক্ষক-কর্মচারীদের অর্থনৈতিকভাবে এবং তাদের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার জন্য রাজ্যের বর্তমান সরকার একের পর এক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে৷
প্রতিনিয়তই কর্মচারীদের বঞ্চনার মুখে ঠেলে দিয়েছে প্রশাসন৷শিক্ষক-কর্মচারীদের বঞ্চনার বিরুদ্ধে সমন্বয় কমিটির লড়াইয়ের ঐতিহ্য রয়েছে৷ আজ শুধু শিক্ষক-কর্মচারীরাই নয়, সমাজের সব অংশের মানুষ বঞ্চিত৷ এর প্রতিবাদে জেহাদ শুরু হয়ে গেছে৷ তাই সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকেও কর্মচারী সমন্বয় কমিটি আন্দোলন গ্রহণ করবে৷ প্রয়োজনে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলবে সংগঠন৷