উদ্বোধনী ভাষণে কৃষিমন্ত্রী কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কৃষিভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্পের সুুযোগ সুুবিধার কথা তুলে ধরেন৷ তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মাননিধির মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা এবং কিষাণ ক্রেডিট কার্ডের আওতায় কৃষি ঋণের ব্যবস্থা কৃষকদের মধ্যে সাড়া ফেলে দিয়েছে৷ তিনি বলেন, কৃষিকাজ সম্পসারণ সহ সরকার ক’ষকদের আয় দ্বিগুণ করার উদ্যোগ নিয়েছে৷
রাজ্যের সুুস্বাদু ক্যুইন জাতের আনারস বিদেশে বাজারজাত করার পাশাপাশি কৃষকদের উৎপাদিত ধান ন্যায্য মূল্যে ক্রয় করা হচ্ছে৷ তিনি বলেন, কৃষিজ ফসল উৎপাদনের উপযুক্ত পরিকাঠামো গড়ে তোলা এবং কৃষি পণ্যগুলি বাজারজাতকরণের মাধ্যমে কৃষকদের আয় বাড়ানোর ব্যবস্থা করাই হচ্ছে সরকারের মূল লক্ষ্য৷ কৃষিভিত্তিক সফলতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজ্যের ২ লক্ষ ৪৩ হাজার কৃষককে এ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনার আওতায় আনা হয়েছে৷
কৃষিভিত্তিক বিভিন্ন তথ্য জানার জন্য কৃষকদের স্বার্থে অধিকাংশ ব্লক এলাকায় খোলা হয়েছে কৃষক বন্ধ কেন্দ্র৷ উন্নত পদ্ধতিতে কৃষকরা যাতে কৃষিকাজে সমৃদ্ধ হতে পারে তারজন্য ভর্তকিতে দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন প্রকারের কৃষি যন্ত্রপাতি৷ তিনি জানান, কৃষকদের বাড়তি আয়ের সুুবিধার্থে ধানের পাশাপাশি ভুট্টা বা ডাল জাতীয় শস্য চাষ করারও সরকার উদ্যোগ নিয়েছে৷ তাছাড়া মাশরুম চাষ, মৌমাছি পালন, মৎস্যচাষ, ছাগল বা গোপালন ইত্যাদি কাজেও কৃষকরা যাতে উদ্যোগী হয় সে বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি৷
অনুষ্ঠানে সিপাহীজলা জিলা পরিষদের সভাধিপতি সুুপ্রিয়া দাস দত্ত কৃষিক্ষেত্রে সরকারের যেসব উন্নয়নমূলক কর্মসূচি রয়েছে সেগুলি বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষিকাজকে সম্পসারণের উপর গুরুত্বারোপ করেন৷ অনুষ্ঠানে অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিধায়ক সুুভাষ চন্দ্র দাস, ত্রিপুরা ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান বাহারুল ইসলাম মজমদার, সিপাহীজলার জেলাশাসক বিশ্বশ্রী বি প্রমুখ৷ স্বাগত ভাষণ দেন মোহনভোগ কৃষি মহকুমার কৃষি তত্ত্বাবধায়ক বিভাস কান্তি দে৷ অনুষ্ঠান এছাড়াও অতিথি হিসেবে সিপাহীজলা জিলা পরিষদের দারিদ্র্য দূরীকরণ বিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান রতন দাস, জিলা পরিষদের কৃষি বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি বিশ্বজিৎ সাহা, নলছড় পঞ্চায়েত
র চেয়ারম্যান জওহরলাল ঘোষ এবং মোহনভোগ পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান শ্রীবাস ভৌমিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন৷ অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহরায় ১০ জন কৃষকের হাতে ধান মাড়াই এবং ৩০ জন কৃষকের হাতে স্পে মেশিন আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেন৷ মেলাকে কেন্দ্র করে কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তর সহ স্বাস্থ্য দপ্তর, মৎস্য দপ্তর এবং অন্যান্য দপ্তরের পক্ষ থেকে ৬টি প্রদর্শনী স্টল খোলা হয়েছে৷ ৩দিনব্যাপী মেলার প্রতিদিন সন্ধ্যায় অনুষ্ঠান মঞ্চে অনুষ্ঠিত হচ্ছে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান৷