অভিশংসন: ট্রাম্পকে ‘প্রধান উসকানিদাতা’ বলছে ডেমোক্র্যাটরা

অনলাইনডেস্ক ১১ফেব্রুয়ারী।। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসন বিতর্ক শুরু হয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা তাকে ‘প্রধান উসকানিদাতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ হলো, ট্রাম্প প্রথমে ভোট জালিয়াতি নিয়ে সুর চড়িয়েছিলেন। তার ওই অভিযোগ ছিল পুরোপুরি মিথ্যা। তারপর তিনি ক্যাপিটলে যাওয়ার জন্য সমর্থকদের উসকেছেন।

ভোট জালিয়াতির কথা শুনে সমর্থকেরা উত্তেজিত ছিলেনই। তার সঙ্গে যোগ হয়েছিল উসকানি। তার ফলে ক্যাপিটল-কাণ্ড হয়েছিল। ডয়চে ভেলে এক প্রতিবেদনে জানায়, সাবেক প্রেসিডেন্টের অ্যাটর্নি ও ইমপিচমেন্ট ম্যানেজাররা কথা বলার জন্য ১৬ ঘণ্টা সময় পাবেন। দুই দিন ধরে তারা ট্রাম্পের সমর্থনে যাবতীয় যুক্তি দেবেন। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একটাই অভিযোগ, তিনি সমর্থকদের উসকানি দিয়েছিলেন, তার ফলে ক্যাপিটলের ঘটনা ঘটেছে।

বিতর্কের সূচনা করে ডেমোক্র্যাট সদস্য জেমি রাসকিন বলেন, ট্রাম্পের এই বিচার হলো আমেরিকার জন্য ‘সত্য প্রতিষ্ঠার মুহূর্ত’। ট্রাম্পের অ্যাটর্নিদের দাবি ছিল, সাবেক প্রেসিডেন্ট কোনোভাবে সমর্থকদের উসকানি দেননি। কিন্তু রাসকিন বলেন, তথ্যপ্রমাণ দেখিয়ে দেবে, এই ঘটনায় ট্রাম্পের ভূমিকা কী ছিল। তিনি ‘কমান্ডার ইন চিফ’-এর বদলে ‘ইনসাইটার ইন চিফ’ বা প্রধান উসকানিদাতায় পরিণত হন।ট্রাম্পের একের পর এক টুইট উদ্ধৃত করে রাসকিন দেখানোর চেষ্টা করেন, তার অ্যাটর্নিরা যা বলছেন ঠিক নয়। ট্রাম্পের একটি টুইটে বলা হয়েছিল, ‘বি দেয়ার, উইল বি ওয়াইল্ড’।

রাসকিনের দাবি, এসবই দেখিয়ে দিচ্ছে, ক্যাপিটলের ঘটনায় ট্রাম্পের ভূমিকা কতটুকু। ডেমোক্র্যাট সদস্য জো নেগুসে জানিয়েছেন, তার দলের যে সদস্যরা ইমপিচমেন্ট-ভাষণ দেবেন, তারা এটা দেখাতে পারবেন যে, ট্রাম্পের উসকানির ফলেই তার সমর্থকেরা ক্যাপিটলে তাণ্ডব করেছিল। বারবার জালিয়াতির কথা বলে, ট্রাম্প আগে থেকেই তাদের উত্তেজিত করে রেখেছিলেন।ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি স্ট্র্যাসি প্ল্যাসকেট জানান, ট্রাম্প আগে থেকেই সব বুঝতে পেরেছিলেন।

তারপরেও ইচ্ছা করে উসকানি দেন। তিনি সহিংসতার আবহ তৈরি করেন, তারপর সমর্থকেরা সহিংস হয়েছে। ক্যাপিটল-তাণ্ডবের দিন সিকিউরিটি ক্যামেরায় ধরা পড়া ফুটেজও প্রকাশ করেছেন প্ল্যাসকেট। সেখানে দেখা যাচ্ছে, প্রাউড বয়জের বেশ কিছু সদস্য ক্যাপিটলে ঢুকে জানলার কাচ ভাঙছে। তারপর তারা করিডরে ঢুকছে। তারা রক্ষীদের হটিয়ে দিচ্ছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স এবং অন্যদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আর দাঙ্গাকারীরা চিৎকার করছে, ‘মাইক পেন্সকে মার’, ‘ন্যান্সি পেলোসিসহ যাকে হাতের কাছে পাব, তাকেই মারব’।প্ল্যাসকেটের বক্তব্য, ট্রাম্প এই সব করার জন্যই সমর্থকদের পাঠিয়েছিলেন। দাঙ্গাকারীরা পেলোসিকে বিশেষ করে খুঁজছিল। তার অফিসে ঢুকে তারা ভাঙচুর করে। একজনের হাতে ছড়ির মতো অস্ত্র ছিল। হাউসের সদস্যরা যখন নিরাপদ জায়গায় যাচ্ছিলেন, তখনই দাঙ্গাকারীরা হাউসে ঢুকে পড়ে। মিনিটখানেক আগে তারা ঢুকতে পারলেই ভয়ংকর অবস্থা হতো।ক্যাপিটলের ওই দাঙ্গায় তিনজন অফিসার মারা যান, আহত হন ১৪০ জন।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?