কর্মশালায় রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে যুবক যুবতীগণ অংশগ্রহণ করেন৷ কর্মশালায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরার মতো ছোট রাজ্যেও প্রচুর সংখ্যক মানুষ সামাজিক মাধ্যমের সঙ্গে জড়িত৷ সামাজিক মাধ্যমে রাজ্যের কল্যাণে গৃহীত মন্ত্রিসভার বিভিন্ন সিদ্ধান্তগুলি জনগণের কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রেও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন৷ সেই দিশায় যুব সমাজকে কাজ করার জন্য এগিয়ে আসতে হবে৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০১৮ সালে রাজ্যে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর রাজ্যে উন্নয়নে গতি এসেছে৷
রাজ্যে স্বরোজগারীর সংখ্যাও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে৷ বর্তমান সরকারের সময়কালে রাজ্যে ব্যবসা বাণিজ্যের পরিমাণ ৭৫ শতাংশ বেড়েছে৷ এটা রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কাজেরই প্রতিফলন৷ তিনি বলেন, বিগত সরকার সব সময় কেন্দ্রীয় বঞ্চনার দোহাই দিয়ে রাজ্যের জনগণকে বিভ্রান্ত করে গেছে৷ ফলে রাজ্যের উন্নয়নমূলক কাজ স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল৷ বর্তমান রাজ্য সরকার রাজ্যের সব অংশের মানুষের রোজগার দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে৷ রাজ্যের মানুষকে আত্মনির্ভর করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে শিল্প ক্ষেত্রে মাঝারি, ক্ষুদ্র, ছোট শিল্প ক্ষেত্রগুলির উন্নয়ন করা হয়েছে৷ ফলে রাজ্যে স্বরোজগারীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে৷
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের আমলে রাজ্যে গণবন্টন ব্যবস্থা সহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই দূর্ণীতি ছিল৷
বর্তমান রাজ্য সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গণবন্টন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এনেছে৷ প্রচুর পরিমাণ ভূয়ো রেশনকার্ড বাতিল করা হয়েছে৷ পাশাপাশি বিগত সরকারের আমলে রাজ্যে যে চাঁদাবাজির জলুম ছিল তাও বন্ধ করে দিয়েছে বর্তমান সরকার৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দায়িত্ব গ্রহণ করার পর ডিজিট্যাল ইণ্ডিয়া গড়ে তোলার প্রয়াস নিয়েছেন৷ তখন থেকে আমাদের রাজ্যেও ট্যুইটার, ফেসবুকের মতো সামাজিক মাধ্যমগুলির ব্যাপক প্রসার শুরু হয়েছে৷
রাজ্যের জনগণও বিভিন্ন দিক দিয়ে উপকৃত হচ্ছেন৷ গত বছরের ডিসেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি প্রকল্পের মাধ্যমে একসঙ্গে ১৮ কোটি টাকা কৃষকদের অ্যাকাউন্টে দেওয়া হয়েছে৷ তাতে রাজ্যের ব্যাপক অংশের কৃষকও উপকৃত হয়েছেন৷ তিনি বলেন, সামাজিক মাধ্যমে জনকল্যাণে গৃহীত কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের প্রকল্পগুলি সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করার ক্ষেত্রে যুব সমাজের এগিয়ে আসাতে হবে৷ এক্ষেত্রে সামাজিক মাধ্যম একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে৷
কর্মশালায় দেশের বরিষ্ঠ সাংবাদিক তথা সোস্যাল মিডিয়া বিশেষজ্ঞ সুুশান্ত সিনহা বলেন, সরকারের উন্নয়নমূলক কাজগুলি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সামাজিক মাধ্যমের বিশাল ভূমিকা রয়েছে৷ সোস্যাল মিডিয়ায় ট্যুইটার, ফেসবুক ইত্যাদির মাধ্যমে সরকারের চিন্তাধারা ও পরিকল্পনাগুলি সহজেই জনগণের মধ্যে পৌঁছানো যেতে পারে৷ সামাজিক মাধ্যমের বিভিন্ন দিকগুলির মধ্যে ট্যুইটার জনগণের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে৷
ট্যুইটারের মাধ্যমেই রাজ্যে কি কি উন্নয়ন হয়েছে তা দেশ বিদেশের মানুষও জানতে পারবে৷ সোস্যাল মিডিয়ার ব্যবহার দেশ ও রাজ্যের ভালোর জন্যই ব্যবহার করা বা’নীয় বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন৷ কর্মশালায় দিল্লি থেকে আগত সোস্যাল মিডিয়া বিশেষজ্ঞ অপূর্বা সিং বলেন, সোস্যাল মিডিয়া এমন একটি মাধ্যম যা দ্রত তথ্য আদান প্রদান করতে পারে৷ দেশে বর্তমানে সোস্যাল মিডিয়ার ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলছে৷
বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সময়কালেই দেশে মোবাইল নেটওয়ার্ক পরিষেবা সহজতর হয়েছে৷ যার সুুফল এখন দেশবাসী পাচ্ছেন৷ কর্মশালায় ত্রিপুরা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মানিক সাহা বলেন, মানুষের জ্ঞান লাভের পরিধিকে আরও প্রসারিত করতে সামাজিক মাধ্যম অন্যতম ভূমিকা নিতে পারে৷ সামাজিক মাধ্যমের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রচার রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তিনি যুব সম্পদায়ের প্রতি আহ্বান জানান৷ কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন ত্রিপুরা খাদি ও গ্রামোদ্যোগ পর্ষদের চেয়ারম্যান রাজীব ভ-াচার্য ও ত্রিপুরা স্পোর্টস কাউন্সিলের সচিব অমিত রক্ষিত৷ তাছাড়া উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা সড়ক পরিবহণ নিগমের চেয়ারম্যান দীপক মজমদার৷