অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার আত্মনির্ভর ত্রিপুরা গড়ায় উদ্যোগী হয়েছে৷ বেকারদের স্বরোজগারী করার লক্ষ্যে রাজ্য সরকার সদর্থক দৃষ্টিভঙ্গি পালন করছে৷ তিনি বলেন, এখন রাজ্যের মানুষের চিন্তার আমূল পরিবর্তন হয়েছে৷ যুব সমাজের মধ্যে স্বনির্ভর হওয়ার মানসিকতা সৃষ্টি হয়েছে৷ তারা এখন নিজেদের উদ্যোগে কর্মে সৃজনশীল হতে চাইছে৷ কর্মে সৃজনশীল হতে গেলে প্রথমেই প্রয়োজন নিজের প্রতি আস্থাশীল হওয়া এবং আত্মনির্ভরতা বাড়ানো৷
তবেই কোন কাজে তারা প্রক’তলক্ষে পৌঁছতে পারবে৷ এভাবেই প্রধানমন্ত্রীর আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তোলা সম্ভব হবে৷ বর্তমান সরকার সেই লক্ষ্যেই রাজ্যকে নিয়ে যেতে কাজ করছে৷ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে দুধ এবং দুগ্দজাত দ্রব্যের আমদানিতে প্রতি বছর বিপুল অর্থরাশি বহির্রাজ্যে চলে যায়, সেই অর্থ রাজ্যে রাখার জন্য বর্তমানে রাজ্য সরকার দুগ্দ উৎপাদন ব’দ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে৷ রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী উন্নত গোধন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে৷
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী ৩ বছরের মধ্যে সে সর্টেড সিমেন টেকনোলজির মাধ্যমে বাছুরের সংখ্যা বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷ বাছুরের সংখ্যা ব’দ্ধি মানেই দুগ্দ উৎপাদনে স্বনির্ভর হওয়া৷ এতে সাধারণ মানুষ যেমন দুধ, তথা দুগ্দ জাতীয় পণ্য সহজে পাবে পাশাপাশি দুগ্দজাত শিল্প কারখানাও রাজ্যে গড়ে উঠবে৷ এতে রাজ্যের অর্থনৈতিক অবস্থার যেমন উন্নতি হবে তেমনি কর্মসংস্থানেরও সুুযোগ সৃষ্টি হবে৷
মুখ্যমন্ত্রী গোমতী কো-অপারেটিভ মিল্ক প্রোডিউসার্স ইউনিয়নের সাফল্যের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, রাজ্যে দুগ্দ উৎপাদকদের কাছ থেকে দুধ কেনার পরিমান ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২১৪৫ মেঃটন ছিল যা ২০১৯-২০ অর্থবছরে ব’দ্ধি পেয়ে হয়েছে ২৮২৮ মেঃটন৷ ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দুধ সরবরাহকারীর সংখ্যা ছিল ৫৭০০ জন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে বৃদ্ধি পেয়ে সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭৪০ জন৷ ২০১৭-১৮ অর্থবছরের হিসেবে রাজ্যে ডেয়ারি কো-অপারেটিভ সোসাইটির সংখ্যা ছিল ৬০টি, ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা বেড়ে দাড়িয়েছে ১১৭টি৷
বাল্ক মিল্ক কুলিং স্টেশনে ২০১৭-১৮ সালে ধারণ ক্ষমতা ছিল ২০০০ লিটার৷ ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১৩,০০০ লিটার পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রী গোমতী কো-অপারেটিভ মিল্ক প্রডিউসার্স ইউনিয়নের বার্ষিক আয় প্রসঙ্গে বলেন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বার্ষিক আয় ছিল ২৪ কোটি ৯৩ লক্ষ টাকা এবং সেই আয় ২০১৯-২০ অর্থবছরে ব’দ্ধি পেয়ে হয়েছে ২৬ কোটি ২১ লক্ষ টাকা৷ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে নারী শিক্ষা ও নারী সুুরক্ষার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিয়েছে৷ যে সমাজে নারীরা সুুরক্ষিত সেই সমাজের উন্নতি অনিবার্য৷
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে রাজ্যের বিকাশে যে সমস্ত কর্মসূচি রূপায়িত হচ্ছে তার বিস্ত’ত তথ্য তুলে ধরেন৷ তিনি বলেন, রাজ্যবাসীর কল্যাণে কেন্দ্রীয় সরকারের ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প ও রাজ্য সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচিগুলির সুুফল সমস্ত অংশের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে৷ তিনি বলেন, দেশ এখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে করোনা মহামারির প্রকোপ থেকে বেরিয়ে এসেছে৷ দেশীয় টিকার মাধ্যমে বড় মাত্রায় টিকাকরণ কর্মসূচি দেশজড়ে চলছে৷
দেশ এখন অগ্রগতির দিকে ধাবিত হচ্ছে এবং ক্রমশ আত্মনির্ভরশীল হচ্ছে৷ মুখ্যমন্ত্রী এক ত্রিপুরা শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা গড়ে তোলার লক্ষ্যে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন৷ অনুষ্ঠানে বিধায়ক রতন চক্রবর্তী তাঁর বক্তব্যে রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচিগুলির উপর আলোকপাত করেন৷ তিনি সর্বসিদ্ধি এগ্রোটেক প্রাইভেট লিমিটেডের মর্ডান ডেয়ারি প্ল্যান্টের ডিরেক্টর এবং সকল কর্মীদের এখানে এই শিল্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান৷ অনুষ্ঠানে তাছাড়াও বক্তব্য রাখেন শিল্প ও বানিজ্য দপ্তরের সচিব পি কে গোয়েল৷ স্বাগত বক্তব্য রাখেন সর্বসিদ্ধি এগ্রোটেক প্রাইভেট লিমিটেডের অধিকর্তা উত্তম কুমার সাহা৷