তিনি বলেন, নয়া কৃষি বিল যখন পার্লামেন্টে উত্থাপন করা হয়েছে তখন সরকার অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলির সাথে আলোচনা করে নি। জোর করে কৃষক স্বার্থ বিরোধী এবং জনস্বার্থ বিরোধী আইন পাস করে নিয়েছে। ফলে কৃষকরা আন্দোলনের পথ বেছে নেয়। দীর্ঘ দু’মাস ধরে আন্দোলন করলেও কৃষকদের স্বার্থে কোনো ইতিবাচক ব্যবস্থা নেই সরকারের। এটা কেন্দ্রীয় সরকারের ষড়যন্ত্র বলে সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেন তিনি। কৃষকদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেও সরকার কৃষকদের আন্দোলন বন্ধ করতে পারে নি। কৃষকরা তাদের দাবি নিয়ে অনড় রয়েছে। সরকার সম্পূর্ণ অমানবিক। কৃষকদের সমস্যার সমাধান না করে তাদের বিরুদ্ধে বরং যুদ্ধ ঘোষণা করছে সরকার।
দিল্লিতে আন্দোলন রুখতে রাস্তায় প্যারেক গেঁথে দিচ্ছে। একটা সম্পূর্ণ দুর্ভাগ্যের বিষয়। সরকার শুধু কৃষকদের উপর আঘাত আনছে না। দেশে প্রতিদিন পেট্রোপণ্যের মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। পেট্রোলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে নিত্য সামগ্রী মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, কৃষকদের আন্দোলন আরও তেজি করতে হবে। গণঅবস্থানে আন্দোলন সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না বলে জানান তিনি। এদিকে নয়া কৃষি আইন নিয়ে সারা ভারত কৃষক সভা রাজ্য কমিটির সম্পাদক পবিত্র কর বলেন, কৃষকদের বঞ্চনার দলিল তৈরি করেছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নির্বাচনের আগে বলেছিলেন কৃষকদের জন্য উদারভাবে কাজ করবেন তিনি।
আর মোদি সরকারের ৬ বছর পরও প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি। শুধু কৃষকদের প্রতিশ্রুতি নয়, মোদি সরকার একটা প্রতিশ্রুতি রাখেনি। আর এবারের বাজেটে তা আরো বেশি স্পষ্ট হয়ে গেছে। কৃষক আন্দোলনের নেতৃত্বদের নরেন্দ্র মোদি সরকার পক্ষের সাথে ১১ দফা আলোচনা হয়েছে। কিন্তু কোনো সমাধানের সূত্র বের হয়ে আসে নি। সবটাই কৃষকদের সাথে টাইম পাস বলে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। ২৬ জানুয়ারি কৃষকদের আন্দোলন ঘিরে যে অস্থির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল তার জন্য নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত সাহার প্লেন। আর এটা কাপুরুষতার পরিচয় বলে অভিযোগ তুলেন তিনি। তিনি বলেন বিগত ২০২০-২১ বাজেট থেকে ২০২১-২২ বাজেটে কৃষি ক্ষেত্রে ৮ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এম এস পি জন্য এফ সি আই -কে এক টাকাও বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। প্রধানমন্ত্রী সিং চিং যোজনা খাতে ২০২১-২২ বাজেটে কোন অর্থ বরাদ্দ হয় নি। রেগা’তে বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে রেগা শ্রমিকরা ৮০ দিনের কাজও পাবে না। জীবন বীমা সংস্থা পুরোপুরিভাবে বেসরকারিকরণ করে দিচ্ছে। আর এটা নরেন্দ্র মোদি সরকার আদানি আম্বানি স্বার্থে করে চলেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। আরো বলেন, রাজ্যে প্রতিদিন বিরোধী কর্মী-সমর্থকদের উপর আক্রমণ করছে। প্রত্যেক বিরোধী দলের বিধায়ক নিজ এলাকায় যেতে পারছে না। ত্রিপুরা আগামী সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত নিতে হবে বিরোধীদের। চোর এবং লুটবাজ ছাড়া কোন সাধারন মানুষ বিজেপিকে সমর্থন করছে না। কৃষকদের স্বার্থে আগামী ১৫ দিন কৃষকদের বাড়ি বাড়ি প্রচার করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এদিন গনঅবস্থানে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন গণমুক্তি পরিষদের রাজ্য নেতা রাধাচরণ দেববর্মা সহ অন্যান্য নেতৃত্ব।