উহানের সেই ল্যাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষকেরা

অনলাইন ডেস্ক, ৩ ফেব্রুয়ারী।। করোনাভাইরাসের উৎস খুঁজতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) একটি আন্তর্জাতিক গবেষক দল এখন চীনের উহান শহরে। বুধবার তারা একটি ল্যাবরেটরি পরিদর্শন করেছেন। করোনার উৎস হিসেবে এই ল্যাবরেটরি ছিল বিশ্বজুড়ে নানা ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ও জল্পনা কল্পনার কেন্দ্রবিন্দু।

সিএনএন জানায়, ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা শেষে গত সপ্তাহে উহানে অনুসন্ধান শুরু করে ডব্লিউএইচও’র গবেষকেরা।

উহানের একটি সি ফুড মার্কেট থেকে করোনা ছড়িয়ে পড়ে বলে ধারণা করা হয়। পাশাপাশি আঙুল উঠে উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি নামে একটি ল্যাবরেটরির দিকেও।

সদ্য সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসন ল্যাবটি থেকে করোনা ছড়িয়েছে বলে বারবার অভিযোগ তোলেন। যদিও এ নিয়ে কোনো ধরনের প্রমাণ তারা দেখাতে পারেননি।

করোনার উৎস খুঁজতে গিয়ে কয়েকটি জায়গায় গিয়েছেন ডব্লিউএইচও’র দল। এর মধ্যে একটি ছিল উহানের ল্যাবটি।

কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালিত চাইনিজ একাডেমি অব সাইয়েন্সেসের যুক্ত এ ল্যাব পুরো চীনের একমাত্র সর্বোচ্চ পর্যায়ের বায়োক্যান্টনমেন্টে, এটি বায়োসেফটি লেভেল-৪ বা বিএসএল-৪ নামে পরিচিত।

বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক রোগজীবাণু নিয়ে গবেষণার জন্য বিএসএল-৪ ল্যাব তৈরি করা হয়েছে। উচ্চ সংক্রমণ ঝুঁকি তৈরি করে এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নিরাময়যোগ্য নয় এমন সব রোগ জীবাণু নিয়ে কাজ করা হয় এই ল্যাবে।

রবিবার উহানের সেই আলোচিত হুনান সি ফুড মার্কেটটি পরিদর্শন করে ডব্লিউএইচও দল। ২০১৯ সালের শেষের দিকে নিউমোনিয়ার মতো উপসর্গ দেখা গিয়েছিল কয়েকজনের শরীরে। সেটিকে করোনার প্রথম সংক্রমণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে মার্কেটটি বন্ধ করে রেখেছে চীনা প্রশাসন।

আন্তর্জাতিক গবেষক দলের প্রধান ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ পিটার বেন এমবারেক বলেন, ‘জায়গাটা কিছুটা জীবাণুমুক্ত করা হলেও সব দোকান, জিনিসপত্র এখনো আগের মতোই আছে। ফলে মার্কেটটির রক্ষণাবেক্ষণ, অবকাঠামো, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং পণ্য সরবরাহ ও জনসমাগম নিয়ে ভালো একটি ধারণা পাওয়া যাবে। ’

স্থানীয় বাসিন্দা ও বাজারের কর্মীদের সঙ্গেও ডব্লিউএইচও টিম কথা বলেছে বলে এমবারেক জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘এটি স্পষ্ট যে, মার্কেটটিতে কিছু একটা ঘটেছে। এটিও হতে পারে যে, অন্যান্য জায়গাগুলোতেও একইরকম কিছু ঘটেছে এবং একটা জায়গাকেই বেছে নেওয়া হয়েছে কারণ বেশ চালাক কিছু চিকিৎসক ছিলেন, যারা বিক্ষিপ্ত সংক্রমণের মধ্যে একটি যোগসূত্র তৈরি করেছিলেন। ’

শুরু থেকে ধারণা করা হয়েছিল, ডব্লিউএইচও’র দলটির অনুসন্ধান চীনা প্রশাসনের বাধার মুখে পড়তে পারে। কঠোর নজরদারি ছাড়াও তাদের পরিদর্শন সীমিত পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করতে পারে বেইজিং।

তবে তবে উহানে সেই দলটি থাকা ইক হেলথ এলায়েন্সের প্রেসিডেন্ট পিটার ডাশাকা তেমনটি মনে করেননা।   উহানের ল্যাবের গবেষকদের সঙ্গে অতীতে ঘনিষ্টভাবে কাজ করেছিলেন তিনি। ফলে ব্যক্তিগত সম্পর্ক থেকে তিনি আশাবাদী, ল্যাবটির পরিচালকেরা তাকে যথাযথ সহায়তা করবেন।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?