১৩ বছর পাক জেলে অকথ্য অত্যাচারর কথা শোনালেন গুজরাতের ইসমাইল

অনলাইন ডেস্ক, ৩১ জানুয়ারি।। প্রতিদিনের মত ২০০৮-এর এক সকালেও গরু চরাতে গিয়েছিলেন ইসমাইল সামা। গুজরাতের কচ্ছ জেলার নানা দিনারা গ্রামের ৫০ কিলোমিটারের মধ্যেই ভারত-পাক সীমান্ত। গরু চরাতে গিয়ে একটি গাড়ি ধাক্কা মারে ইসমাইলকে। দুর্ঘটনার পর জ্ঞান হারান ইসমাইল। এরপর তিনি সীমানা পেরিয়ে ঢুকে পড়েন পাকিস্তানে। তাঁর জীবনে নেমে আসে এক অন্ধকার অধ্যায়। দীর্ঘ ১৩ বছর কাটাতে হয় পাকিস্তানের জেলে। সেখানেই তাঁর উপর চলত প্রতিদিন অকথ্য অত্যাচার।

প্রশ্ন হল ইসমাইল কিভাবে ভারতীয় সীমান্ত অতিক্রম করে পাকিস্তানের ঢুকেছিলেন। ইসমাইল জানিয়েছেন, অন্য দিনের মতই তিনি যখন গরু চরাচ্ছিলেন সে সময় একটি গাড়ি তাঁকে ধাক্কা মারে। চোট পেয়ে সাময়িক তিনি জ্ঞান হারান। শেষ পর্যন্ত তিনি ভুল করে উদভ্রান্তের মতো হেঁটে সীমানা পেরিয়ে ঢুকে পড়েন পাকিস্তানে। পরের দিন সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ পাকসেনা তাঁকে জানায় যে, তিনি পাকিস্তানে ঢুকে পড়েছেন। প্রথমে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া। হয় সুস্থ হয়ে ওঠার পর তুলে দেওয়া হয় আইএসআইয়ের হাতে।

এরপরই শুরু হয় জেলের মধ্যে অকথ্য অত্যাচার। আইএসআই তাঁকে ভারতীয় গুপ্তচর বলে তকমা দেগে দেয়। ইসমাইলকে দিয়ে বলানোর চেষ্টা শুরু হয় যে, সে ভারতীয় চর। চরবৃত্তির কারণেই সে পাকিস্তানে ঢুকেছে। কিন্তু ইসমাইল কোনও অবস্থাতেই আইএসআইয়ের কাছে হার মানেননি। সে কারণে তাঁর ওপর অত্যাচারের মাত্রা ছিল সীমা ছাড়া। শেষ পর্যন্ত পাক আদালত তাকে গুপ্তচর বলেই চিহ্নিত করে সাজা দেয়। ২০১৬-য় তাঁর সাজার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলও ফেরা হয়নি। কারণ তাঁকে আটকে রাখা হয়েছিল জেলে।

২০১৭-য় ইসমাইলের বাড়ির লোকজন বিষয়টি জানতে পারেন। শেষ পর্যন্ত দেশের সীমানা পেরিয়ে ভারতে ফিরতে লেগে গেল আরও চার বছর। একটানা ১৩ বছর পাক জেলে অকথ্য অত্যাচারের মুখোমুখি হতে হয়েছে ইসমাইলকে। সীমান্তরেখা পেরিয়ে ইসমাইলকে নিয়ে আসেন তাঁর ভাই। পুরনো পাড়ায় ফেরার পর ইসমাইলকে দেখতে মানুষের ঢল নামে। ইসমাইলের ছিল আট সন্তান। ইতিমধ্যেই তারা সকলেই বড় হয়ে গিয়েছে। নিজের ছেলেমেয়েদের কাছে পেয়ে ইসমাইল খুব খুশি।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?