অনলাইন ডেস্ক, ৩০ জানুয়ারি।।তিনি বলিউডের সেই গোত্রের তারকাদের মধ্যে পড়েন,যাঁদের সঙ্গে মুম্বইয়ের টিনসেল সিটির কোনও বাবা-কাকার দেওয়া শংসাপত্র ছিল না। কঠোর পরিশ্রম করে উঠে আসতে হয়েছে প্রচারের সার্চলাইটের নীচে। যাঁকে একটা সুযোগ দিন বলে দোরে দোরে ঘুরতে হয়েছে।
যিনি নিচের নাচের তালে তালে আলোড়ন তুলে দিয়েছেন ভারতীয় জনতার মনে। তাঁর হাস্যরস অনেক দুঃখ ভুলিয়ে দিয়েছে দর্শকের। সেই জনপ্রিয় তারকা গোবিন্দ এ বার তাঁর সেই উত্থান-পতনের কাহিনি তুলে ধরতে চান কলমের মাধ্যমে।
গোবিন্দর কথায়, “বহুদিন ধরেই ঠিক করে রেখেছি, এবার একটা আত্মজীবনী লিখতে হবে। তবে সেটার পুরোদমে কাজ শুরু হবে যখন আমি ৫৭ বছরে পা রাখব। তার আগে সমস্ত ঘটনাকে এক জায়গায় নিয়ে আসার কাজ শুরু করে দিয়েছি। মনে হয়, সেই আত্মজীবনী নতুন প্রজন্মের লড়াই করে উঠে আসা তারকাদের উদ্দীপ্ত করবে।”
তাঁর ৩৫ বছরের চলচ্চিত্র জীবনে রয়েছে নানা রোমাঞ্চক ঘটনা। পরিচালক ডেভিড ধাওয়ানের সঙ্গে দুর্দান্ত রসায়ন এবং পরে সেই সম্পর্কে ইতি। একটা সময় তিনি ছিলেন বলিউডের ভাইজান সলমান খানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
পরে সেই সম্পর্কও হয়েছে তিক্ত। অভিনয় ছেড়ে চলে গিয়েছেন রাজনীতির মঞ্চে। ভোটে জিতেছেন, আবার চার বছর পরে সেই পর্বে ইতি টেনে ফিরে এসেছেন নিজের জগতে। গোবিন্দর কথায়, “মাঝেমধ্যে মনে হয়, আমার জীবন একটা বইয়ের মধ্যে লিখে ফেলা সম্ভব নয়।
এক একটা ঘটনা নিয়েই আলাদা করে একটা বই হতে পারে। বিহারের এক নাম না জানা অঞ্চল থেকে উঠে আসার কাহিনি, মুম্বই ফিল্মজগতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পরের অধ্যায়, যখন হাতে খুব বেশি কাজ ছিল না, সেই সময়ের একাকীত্বের গল্প, এমন কত কিচু জমিয়ে রেখে দিয়েছি মনের মধ্যে।
আমি মনে করি, এই আত্মজীবনী যখন প্রকাশিত হবে, সেটা পড়ে অনেকেরই অনেক ধরনের সমস্যার দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে। সত্যি বলতে, রাজ কাপুরের মতো আমিও মন খুলে নিজের সমস্ত কথা সকলের সামনে জানাতে চাই।”
সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন উঠছে, তাঁর জীবনে তো রয়েছে অনেক বিতর্কও। তা-ও কি ঠাঁই পাবে সেই আত্মজীবনীতে? গোবিন্দ বলেছেন, “কেন থাকবে না! সেগুলোকে উপেক্ষা করে তো জীবন এগোতে পারে না।
আমি কেন তা গোপন করতে যাব? কোনও দিন তো কল্পনাও করিনি, মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে হয়ে রাতারাতি বলিউডের তারকায় পরিণত হবে। কাজেই সমস্ত কিছুই পাঠকের সামনে তুলে ধরার জন্য তৈরি।”