করোনা : উহানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞদের তদন্ত শুরু

অনলাইন ডেস্ক, ২৯ জানুয়ারি।। কোয়ারেন্টাইন শেষে উহানে করোনাভাইরাসের অনুসন্ধানে নেমেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ দল। এ মাসের মাঝামাঝি দলটি চীনে পৌঁছে।

ডয়চে ভেলে জানায়, বৃহস্পতিবার থেকে করোনার উৎসের সন্ধানে কাজ শুরু করেছে ১০ জনের বিশেষজ্ঞ দলটি। এর আগে উহানেই ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হয়েছে তাদের।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, পশু-পাখির যে বাজার থেকে প্রথম করোনা ছড়িয়েছিল বলে চীন দাবি করেছিল, তাদের কাজও সেখান থেকেই শুরু হবে। কিন্তু তারা সকলের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এদিকে আলজাজিরা জানিয়েছে, শুক্রবার হাসপাতাল ও ল্যাবগুলোতে পরিদর্শনে যাবে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ দলটি। এদিন সংশ্লিষ্ট চীনা বিজ্ঞানীদের একটি দলের সঙ্গে দেখা করেছেন তারা।

এক টুইটে ডব্লিউএইচও জানায়, করোনার উত্স খুঁজতে সমস্ত অনুমান নিয়ে বৈজ্ঞানিকভাবে কাজ করছে বিশেষজ্ঞ দল। তাদের প্রয়োজনীয়তা অনুসারে সব ধরনের তথ্য, সহায়তা দেওয়া উচিত।

গত বছরের ৩০ জানুয়ারি করোনাকে ‘বৈশ্বিক মহামারি’ বলে ঘোষণা করেছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তার বেশ কিছু দিন আগে থেকেই চীনে করোনার সংক্রমণ মারাত্মকভাবে ছড়াতে শুরু করে। শুরুতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল উহান।

প্রথমে শহরটির সীমানা বন্ধ করে মহামারি মোকাবিলার চেষ্টা করে চীনা সরকার। তারপর কড়া লকডাউন ঘোষণা করা হয়। কার্যত গৃহবন্দী হয়ে পড়েন সাধারণ মানুষ। তারই মধ্যে করোনার সংক্রমণ ছড়াতে থাকে।

চীনের দেওয়া প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী তিন হাজার ৯০০ মানুষের মৃত্যু হয়। যদিও এই সংখ্যাটি ঠিক কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক আছে। অনেকেরই বক্তব্য, চীন উহানে মৃত্যুর সংখ্যা কম করে দেখিয়েছে।

তবে লকডাউনের জেরে উহানে সংক্রমণের হার ক্রমশ কমতে শুরু করে।  চীনের বক্তব্য, উহানের একটি পশু বাজার থেকে প্রথম করোনা ছড়ায়। তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রথম থেকে দাবি করছে, উহানের একটি ল্যাবরেটরি থেকে করোনা প্রথম সংক্রমিত হয়। বিদেশে পালিয়ে যাওয়া চীনের কয়েকজন গবেষকও একই কথা বলেছেন। যদিও এখন পর্যন্ত ওই ল্যাবে চীনের প্রশাসন ছাড়া কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

বেশ কয়েক মাস আগেই উহানে গিয়ে করোনার উৎস নিয়ে গবেষণা করতে চেয়েছিল ডব্লিউএইচও। কিন্তু চীন আলোচনা দীর্ঘ করছিল। সেই আলোচনার মধ্যেই ডব্লিউএইচও-র দুই কর্মকর্তা চীনে পৌঁছালে তাঁদের দেশে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

শেষ পর্যন্ত ডব্লিউএইচও’র প্রতিনিধি দলকে উহানে যেতে দেওয়া হলেও তাদের কড়া নজরদারির মধ্যে রাখা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার কোয়ারেন্টাইন শেষ করে যখন তারা বাসে ওঠেন, তখন গোটা এলাকা হলুদ টেপ দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়।

উহানের বাসিন্দাদের অনেকেরই দাবি, প্রশাসন যত দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারতো, বাস্তবে তা নেয়নি। কোনো কোনো মহলের অভিযোগ, ডব্লিউএইচও আরো আগে ব্যবস্থা নিতে পারতো। এই অভিযোগগুলি যারা করছেন, উহানের সেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে আদৌ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তারা কথা বলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় আছে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?