অনলাইন ডেস্ক, ২৮ জানুয়ারি।।বিতর্কিত তিন কৃষি আইনকে কেন্দ্র করে ক্রমশই নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে একজোট হচ্ছে বিরোধীরা। শুক্রবার শুরু হচ্ছে সংসদের বাজেট অধিবেশন। সাধারণত বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিন লোকসভায় ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি।
এবার তিন কৃষি আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে রাষ্ট্রপতির ভাষণ বয়কট করার ডাক দিল তৃণমূল কংগ্রেস-সহ ১৬টি বিরোধী দল।
যে সমস্ত দল রাষ্ট্রপতির ভাষণ বয়কটের ডাক দিয়েছে তাদের মধ্যে আছে তৃণমূল কংগ্রেস, এনসিপি, কংগ্রেস, ডিএমকে, আরজেডি, সিপিএম, সিপিআই, সমাজবাদী পার্টি, শিবসেনা, পিডিপির মতো একাধিক দল। তৃণমূল-সহ অন্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি জানিয়েছে, এই তিন কৃষি আইন রাজ্যের স্বাধিকারের উপর আঘাত।
এই আইন সংবিধানের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী। তাই এই আইন মেনে নেওয় যায় না। উল্লেখ্য, নরেন্দ্র মোদি সরকারের এই তিন কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে প্রথম দিন থেকেই সরব হয়েছে বিরোধীরা।
তৃণমূল নেত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম দিনই এই তিন কৃষি আইন বাতিলের দাবি জানিয়েছিলেন। একাধিকবার তিনি ব্যক্তিগতভাবে দিল্লির সিঙ্ঘু সীমানায় আন্দোলনরত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
এই আইন বাতিলের দাবিতে কেরল বিধানসভায় একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। বিরোধীরা এই আইনকে কৃষকদের পক্ষে চরম ক্ষতিকর বলে দাবি করলেও সরকার তা মানতে নারাজ।
বরং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-সহ তাঁর মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরা একাধিকবার বলেছেন, কৃষকদের উন্নতির জন্য এই আইন করা হয়েছে। এই আইন কার্যকর হলে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ হবে।
কৃষকদের প্রধানমন্ত্রী দেশের অন্নদাতা বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কৃষকদের স্বার্থেই এই আইন সংস্কার করা হয়েছে। নতুন আইনের কারণে কৃষকরা নিজেদের পণ্য ভাল দামে বিক্রি করতে পারবেন।
ফলে তাঁদের আয় বাড়বে, উন্নত হবে জীবনযাত্রার মান। তবে সরকারের এই বক্তব্য মানতে রাজি নয় কৃষকরা। একই সঙ্গে বিরোধীরাও কৃষকদের সমর্থন করছে। কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজাদ বৃহস্পতিবার বলেন, ১৬টি বিরোধী দল একযোগে রাষ্ট্রপতির ভাষণ বয়কট করবে।
আজাদ আরও দাবি করেন, সাধারণতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে কৃষকদের ট্রাক্টর মিছিলকে কেন্দ্র করে যে দুর্ঘটনা ঘটেছে তার নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। এই তাণ্ডবের সঙ্গে কারা জড়িত তা খুঁজে বের করা হোক। বিদ্রোহীরা এদিন লালকেল্লার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি তুলেছেন।
একই সঙ্গে ঘটনার দিন দিল্লি পুলিশ কেন দর্শকের ভূমিকা পালন করেছিল তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। সাধারণতন্ত্র দিবসের ঘটনার জন্য কংগ্রেস আগেই অমিত শাহর পদত্যাগ দাবি করেছে।
গুলাম নবি এদিন আরও বলেন, মোদি সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে কৃষি আইন সংসদে পাস করিয়েছে। কৃষি আইন নিয়ে তারা বিরোধীদের কোনও বক্তব্য বা পরামর্শ কানে তোলেনি। এই ঘটনায় বিজেপির স্বৈরাচারী মনোভাবই ফুটে উঠেছে।