কিন্তু আন্দোলনরত শিক্ষকরা গণ অবস্থানস্থল ছাড়তে চায়নি। অবশেষে পুলিশ প্রশাসন আন্দোলনরত শতাধিক কয়েক শিক্ষক শিক্ষিকাদের গ্রেপ্তার করে তুলে নেয় গাড়িতে। এবং শহরের মোতায়েন করা হয় পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী। ১৪৪ জারি করা হয়। উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে ২৫ জানুয়ারির মধ্যে জে এম সি ১০,৩২৩ শিক্ষক সংগঠনের পক্ষ থেকে চাকরিচ্যুত হয়ে যাওয়ার স্পষ্টিকরণ চাওয়া হয়েছিল। সরকারের বর্তমানে কি চিন্তা ধারা রয়েছে চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের নিয়ে সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের কোনরকম সদুত্তর দেননি সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত।
অবশেষে মুখ্যমন্ত্রী কাছ থেকে নিরাশ হয়ে চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের নরমপন্থী আন্দোলন থেকে নড়েচড়ে চরমপন্থী আন্দোলনের দিকে হাঁটতে সিদ্ধান্ত নেয়। ২৭ জানুয়ারি সকাল ১১ টা নাগাদ গণঅবস্থান স্থল থেকে বের হয়ে চাকুরিচুত্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন অভিযান করবে সোমবার রাত ৯ টা নাগাদ সাংবাদিক সম্মেলন করে এই ঘোষণা দিয়েছিলেন চাকরিচ্যুত শিক্ষক বিজয় কৃষ্ণ সাহা। আর এরপরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। পরবর্তী সময়ে বুধবার সকালে গ্রেফতার আন্দোলনকারি শিক্ষকদের। আন্দোলনরত শিক্ষকদের গণঅবস্থান স্থল অর্থাৎ তাবু ভেঙে নিয়ে যায় পুলিশ প্রশাসন। হাই এলার্ট জারি করে গোটা শহরে। কিন্তু তাতেও পিছু হাঁটেনি চাকরিচ্যুত শিক্ষকেরা।
দূরদূরান্ত থেকে এদিন সকালে বহু শিক্ষক শিক্ষিকা ছুটে আসেন শহরে। ১০ টা নাগাদ প্যারাডাইস চৌমুহনিতে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় আন্দোলনরত শিক্ষকরা। পরবর্তী সময় সেই আন্দোলনকারী শিক্ষকরা মুখ্যমন্ত্রী সরকারি আবাসন ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখায়। এদিন শিক্ষক-শিক্ষিকারা একা ছিল না তাদের পাশে ছিল তাদের পরিবার পরিজন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বর্তমানে প্রশাসনকে নাকানি-চুবানি খেতে হচ্ছে। আন্দোলনরত শিক্ষক- শিক্ষিকাদের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয় বুধবার সকালে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করতে এসে একজন শিক্ষিকার শরীরে হাত দিয়েছে পুলিশ কর্মী। এবং পুলিশের পিটুনিতে একজন শিক্ষক এবং একজন শিক্ষিকা গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত শিক্ষক শিক্ষিকারা মিতালি দেব দাস এবং কিশোর দেব। বর্তমানে আহত শিক্ষক-শিক্ষিকা আইজিএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।