ওই কুসংস্কারগ্রস্ত শিক্ষিকা পরিষ্কার জানিয়েছেন, তান্ত্রিক উপাচার মেনে তিনি দেবতার কাছে নিজের দুই মেয়েকে বলি দিয়েছেন। সত্য যুগ শুরু হলে তাঁর দুই মেয়ে নাকি আবার বেঁচে ফিরে আসবে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে অন্ধপ্রদেশের চিত্তোর জেলার মদনপাল্লে শহরে।
ওই শিক্ষিকার এই কাজ প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত করতে এসে পুলিশ ওই শিক্ষিকার কাণ্ড-কারখানা দেখে হতবাক। পুলিশ জানিয়েছে, ওই মহিলা এবং তাঁর স্বামী দুজনেই বেশ উচ্চশিক্ষিত।
এলাকার দু’টি স্কুলের প্রিন্সিপাল তাঁরা। কিন্তু এমন শিক্ষিত মানুষ কিভাবে এই কাণ্ড ঘটালেন তা পুলিশ বুঝতে পারছে না। পুলিশ জানিয়েছে, শিক্ষিকার দুই মেয়ে আলেখ্যা ও সাই দিব্যা। আলেখ্যার বয়স ২৭ এবং দিব্যার বয়স ২২ বছর।
আলেখ্যা ভোপালে স্নাতকোত্তর করেছেন। বিবিএ নিয়ে পড়াশোনা করছেন দিব্যা। একই সঙ্গে দিব্যা মুম্বইয়ের এ আর রহমান মিউজিক স্কুলের ছাত্রী। লকডাউনের কারণে দুই মেয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন।
পুলিশের জেরার মুখে ওই শিক্ষিকা জানিয়েছেন, কলি যুগ শেষ হয়ে এসেছে। সোমবার ভোর থেকেই নাকি সত্য যুগ শুরু হচ্ছে। তাই ভোরের আলো ফোটার আগেই নিজের দুই মেয়েকে বলে দিয়েছেন তিনি। তারা সত্য যুগ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আবার বেঁচে ফিরবে।
পুলিশ ইতিমধ্যেই ওই দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে। দেহ দু’টি ময়না তদন্তে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের অনুমান, ওই শিক্ষক-শিক্ষিকা মানসিক রোগে ভুগছেন। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকেই ওই দম্পতির ব্যবহার আমূল বদলে গিয়েছিল। তাঁরা আর বাড়ি থেকে বিশেষ বের হতেন না এবং এলাকার কারও সঙ্গে মিশতেন না।
পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার রাতে ওই দম্পতির বাড়ি থেকে এক অদ্ভুত চিৎকার ও কান্নার আওয়াজ পেয়ে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। দরজা ধাক্কা দিলেও দরজা খোলেননি তাঁরা।
পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ দরজা ভেঙে ঢুকে দেখে ঠাকুর ঘরে বড় মেয়ের রক্তাক্ত দেহ পড়ে রয়েছে। পাশের ঘরে পড়ে রয়েছে ছোট মেয়ের দেহ। দু’টি দেহই লাল কাপড়ে মুড়ে রাখা হয়েছিল।