টানা দ্বিতীয় দিন তাইওয়ানের আকাশে চীনের যুদ্ধবিমান

অনলাইন ডেস্ক, ২৫ জানুয়ারি।। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো তাদের আকাশসীমায় চীনের যুদ্ধবিমানগুলো বড় ধরনের অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছে বলে তাইওয়ান অভিযোগ করেছে।

বিবিসি বাংলা জানায়, শক্তি প্রদর্শনের এ ঘটনা এমন সময় হলো যখন জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার প্রথম কর্মদিবস শুরু করলেন।

রবিবারের অভিযানে ১৫টি বিমান অংশ নেয় এবং এরপরই একই রকম একটি মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এ ঘটনার পরেই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তাইওয়ানের মিত্র ওয়াশিংটন।

তাইওয়ানকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া একটি প্রদেশ হিসেবে গণ্য করে চীন। কিন্তু তাইওয়ান নিজেদের সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে মনে করে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, তাইওয়ানের প্রতি জো বাইডেনের কতটুকু সমর্থন আছে সেটিই পরীক্ষা করে দেখছে চীন।

বাইডেন ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের করা প্রথম মন্তব্যে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটিকে (তাইওয়ান) নিজেদের প্রতিরক্ষায় সহায়তার বিষয়ে ‘দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ’ রয়েছে তারা।

সম্প্রতি কয়েক মাস ধরে তাইওয়ানের দক্ষিণাঞ্চল এবং দেশটি নিয়ন্ত্রিত প্রাতাস দ্বীপের মাঝের জলসীমা দিয়ে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করে আসছে চীন।

তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার তাদের দক্ষিণ-পশ্চিম আকাশ প্রতিরক্ষা এলাকায় চীনের পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম আটটি বোমারু বিমান, চারটি ফাইটার জেট এবং একটি সাবমেরিন বিধ্বংসী বিমান প্রবেশ করে।

রবিবারের অভিযানে ১২টি ফাইটার, দুটি সাবমেরিন বিধ্বংসী বিমান এবং একটি পরিদর্শনের কাজে ব্যবহৃত বিমান ছিল বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

দুটি ক্ষেত্রেই তাইওয়ানের বিমান বাহিনী বিমানগুলোকে সতর্ক করে সরিয়ে দিয়েছে এবং সেগুলোকে পর্যবেক্ষণ করতে আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে।

উল্লেখ্য, ১৯৪৯ সালে চীনের গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর থেকে চীন এবং তাইওয়ানের আলাদা সরকার রয়েছে।

তাইওয়ানের আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ড সীমিত করতে দীর্ঘ দিন ধরে চেষ্টা করে আসছে চীন। আর প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় প্রভাব প্রতিষ্ঠা করতে দুই পক্ষই প্রতিযোগিতা করে আসছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তেজনা বেড়েছে এবং দ্বীপটিকে আবারও নিয়ন্ত্রণে পেতে শক্তি ব্যবহারের বিষয়টিও বাদ দেয়নি চীন।

যদিও হাতে গোনা কয়েকটি দেশ তাইওয়ানকে স্বীকৃতি দিয়েছে, এর গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের অনেক দেশের সঙ্গেই দৃঢ় বাণিজ্যিক এবং অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক রয়েছে।

অন্য দেশগুলোর মতোই তাইপেই-য়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। কিন্তু মার্কিন একটি আইনে দ্বীপটিকে নিজেদের প্রতিরক্ষায় সহায়তা করার কথা বলা রয়েছে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?