হৃদরোগে চাকুরিচ্যুত শিক্ষকের মৃত্যু, মৃতদেহ নিয়ে শিক্ষা ভবনে ধরণা ১০৩২৩ এর

স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ২৫ জানুয়ারি।। চাকরিচ্যুত আরো এক শিক্ষকের মৃত্যু হল। মৃত শিক্ষকের নাম অজিত সূত্রধর। বাড়ি রাজধানী আগরতলা শহর সংলগ্ন নোয়ানিয়ামুড়া।সোমবার সকালে বাথরুমে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হন চাকরিচ্যুত ওই শিক্ষক । হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। তার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।

চাকরিচ্যুত শিক্ষক অজিত সূত্রধরের হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে আগরতলা সিটি সেন্টারের সামনে থেকে আন্দোলনরত চাকুরিচ্যুত কর্মচারীরা তার বাড়িতে ছুটে যান। সেখান থেকে মৃতদেহটি  সিটি সেন্টারের সামনে আন্দোলন মঞ্চে নিয়ে আসা হয়। চাকরিচ্যুত আরো এক শিক্ষকের মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই অন্যান্য চাকুরিচ্যুত শিক্ষক- শিক্ষিকাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয় ।

বিভিন্ন এলাকা থেকে চাকরিচ্যুত শিক্ষক-শিক্ষিকারা সিটি সেন্টারের সামনে আন্দোলন মঞ্চের কাছে এসে সমবেত হতে শুরু করেন। তাতে পরিস্থিতির ক্রমশই উত্তপ্ত হয়ে উঠতে শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মী নামানো হয়। আন্দোলন মঞ্চের সামনে মৃতদেহটি শায়িত রেখে তীব্র ভাষায় রাজ্য সরকারকে কটাক্ষ করেন আন্দোলনকারীরা। সেখান থেকে একসময় মৃতদেহটির শিক্ষা ভবনের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। মৃতদেহ শিক্ষা ভবনের সামনে নিয়ে গিয়ে তীব্র প্রতিবাদ বিক্ষোভে ফেটে পড়েন আন্দোলনকারীরা। সিটি সেন্টারের আন্দোলন মঞ্চের সামনে মৃতদেহ শায়িত রেখে ক্ষোভ  প্রকাশ করে জয়েন্ট  মোমেন্ট কমিটির নেত্রী ডালিয়া তার শিক্ষকের মৃত্যুর জন্য রাজ্য সরকারকে দায়ী করেন।

তিনি বলেন রাজ্য সরকারের নীতির কারণেই একের পর এক শিক্ষক- শিক্ষিকারা অবসাদগ্রস্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে বাধ্য হচ্ছেন। তিনি বলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী আন্দোলনকারীদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন দু’মাসের মধ্যে শিক্ষকদের সমস্যা সমাধান করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পরও শিক্ষকদের সমস্যার কোনো সমাধান করা হয়নি। এদিকে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী রতন লাল নাথ তাদের ইন্টারভিউতে বসার কথা বলে চলেছেন। বয়স উত্তীর্ণরা ইন্টারভিউতে বসে কি হবে সেই প্রশ্ন তুলেছেন জয়েন্ট মোমেন্ট কমিটির নেতৃত্ব।

আন্দোলনকারীরা জানতে চান তারা আর কত মৃত্যু দেখতে চান। এভাবে চলতে পারে না বলেও তারা মন্তব্য করেন । এখনো পর্যন্ত চাকরিচ্যুত শিক্ষক- শিক্ষিকাদের মধ্যে ৮৪জনের মৃত্যু হয়েছে। অবসাদগ্রস্ত হয়ে তাদের এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে চলেছে বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনকারীরা। এসব মৃত্যুর জন্য রাজ্য সরকারকে দায়ী করে এর যোগ্য জবাবদিহি করতে হবে বলেও তারা উল্লেখ করেন। চাকরিচ্যুত তা আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?