অনেকের প্রতিদিনের স্নান কমে সপ্তাহে এক দুইবারে নেমে আসে। ঠান্ডা জল ছেড়ে গরম জলেও চলে যান।
স্বাভাবিকভাবেই শীতকালে স্নান নিয়ে টানাপোড়েন থাকে অনেকের মধ্যে। গরম জলে স্নান করতে হিড়িক পড়ে যায়, আবার অনেকে ঠান্ডা জলও চালিয়ে যান। কিন্তু কোন জলে স্নান করা বেশি উপকার? এই প্রতিবেদনে জেনে নিই।
১. খুব গরম জলে স্নান করা কিন্তু শরীরের পক্ষে মোটেও ভালো না। ত্বকের ফলিকলগুলোকে নষ্ট করে দেয়। স্নানের সময় মাথায় অতিরিক্ত গরম জলের ব্যবহার, চুলকে যেমনি ক্ষতিগ্রস্ত করে তেমনি মস্তিষ্কের ওপরেও চাপ সৃষ্টি করে।
২. অতিরিক্ত গরম জল ব্যবহার করলে মুখে ব্রণ হয়। অ্যাসিডিটির সমস্যাতেও চিকিৎসকেরা পুরোপুরি গরম জলে স্নান করতে বারণ করে থাকেন। এ ছাড়া মানসিক বিষণ্ণতাতেও গরম জলে স্নান নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
৩. যাদের হার্টের সমস্যা রয়েছে, গরম জলের ব্যবহার, তাদের কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমের ওপর প্রভাব ফেলে।
৪. অতিরিক্ত ঠান্ডা জলে স্নান করলে টনসিল, সর্দি, কাশি প্রভৃতি বিভিন্ন শারীরিক উপসর্গের উৎপত্তি ঘটবে। ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় এই অভ্যাস।
৫. অতিরিক্ত ঠান্ডা জলে স্নান শরীরের তাপমাত্রা কমিয়ে দেয়। এতে দেহের সূক্ষ্ম টিস্যুগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নার্ভের সমস্যা দেখা দিতে পারে। যাদের বাতের ব্যথার প্রবণতা থাকে তাদের ক্ষেত্রে ঠান্ডা জলে স্নান একেবারেই নয়।
ফলে দেখা যাচ্ছে, খুব গরম বা অতিরিক্ত ঠান্ডা জলে স্নান কোনো না কোনো শারীরিক সমস্যা তৈরি করে। এ ক্ষেত্রে হালকা বা কুসুম গরম জল স্নানের জন্য অপেক্ষাকৃত ভালো। তবে গরম না করেই স্বাভাবিক উষ্ণতার জল শরীরের জন্য বেশি উপকারী, তবে সেটি যেন কোনোভাবেই অতিরিক্ত ঠান্ডা না হয়।