এপি জানায়, মস্কোতে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী শহরের কেন্দ্রস্থল পুশকিন স্কোয়ারে জড়ো হয়। সেখানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় হেলমেট পরা দাঙ্গা কর্মকর্তারা বিক্ষোভকারীদের পুলিশ বাস এবং ট্রাকে টেনে নিয়ে যায়।
রাজনৈতিক গ্রেপ্তারের ওপর নজরদারি করা মস্কোভিত্তিক ওভিডি-ইনফোর বরাত দিয়ে এপি জানায়, শনিবার মস্কোয় পাঁচ শতাধিক এবং সেন্ট পিটার্সবার্গে দুইশ’র বেশি মানুষকে আটক করা হয়। সব মিলিয়ে ৯০টি শহর থেকে এক হাজার ৬১৪ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানায় ওভিডি-ইনফো।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম হাফিংটন পোস্ট জানায়, ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে- বিশ্বের অন্যতম শীতল শহর সাইবেরিয়ার ইয়াকুতস্কের পুলিশ একজন বিক্ষোভকারীকে হাত ও পা ধরে একটি ভ্যানের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। ইয়াকুতস্কের আজকের তাপমাত্রা ছিল -৫২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড।
গত বছরের আগস্টে নার্ভ এজেন্টের মাধ্যমে বিষ প্রয়োগের পর থেকে নাভালনি জার্মানিতে ছিলেন। সেখানেই তার চিকিৎসা হয়। সুস্থ হয়ে গত সপ্তাহে প্রথমবারের মতো মস্কোতে ফেরার পরপরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর সমর্থকদের প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান নাভালনি।
মস্কোর কেন্দ্রস্থলে কারাবন্দী অ্যালেক্সি নাভালনির সমর্থনে একটি মিছিল চলাকালে দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়।
মধ্য মস্কোতে বিক্ষোভ শুরু আগেই পুলিশ অন্তত ১০০ জনকে আটক করে এবং তাদের পাশের ভ্যানে বেধে রাখা হয় বলে জানায় হাফিংটন পোস্ট।
পুলিশ বিক্ষোভকারীদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়ার সময় কেউ কেউ স্লোগান দিচ্ছিল ‘পুতিন একজন চোর’।
রাশিয়ার আরেক শহর ভ্লাদিভস্তকের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, দাঙ্গা পুলিশ একদল বিক্ষোভকারীকে ধাওয়া করছে, অন্যদিকে খাবারোভস্কে বিক্ষোভকারীরা প্রায় -১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস (-৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট) তাপমাত্রার মধ্যেও ‘দস্যু’ বলে স্লোগান দিচ্ছিল।
কর্তৃপক্ষ বলেছে, এই বিক্ষোভ অবৈধ, তাদের যথাযথ অনুমোদন ছিল না। নাভালনিকে প্যারোল লঙ্ঘনের অভিযোগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ৩০ দিনের হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। তবে, শনিবারের বিক্ষোভ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি ক্রেমলিন।