অনলাইন ডেস্ক, ২৫ জানুয়ারি।।মৌসম ভবন আগেই সতর্কবার্তা জারি করেছিল। সেই সতর্কবার্তা অনুযায়ী শনিবার রাত থেকেই জম্মু-কাশ্মীরে শুরু হয়েছে প্রবল তুষারপাত। অতিরিক্ত তুষারপাতের ফলে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় সড়ক।
জাতীয় সড়ক বন্ধ করে দেওয়ায় মাঝ রাস্তায় আটকে পড়ে বহু গাড়ি। রবিবার রাতে বানিহালের কাছে জাতীয় সড়কের উপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি মিনি ট্রাকের ভিতর থেকে দুই যুবকের দেহ উদ্ধার হয়েছে।
কী কারণে ওই দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে পুলিশের অনুমান, প্রবল ঠান্ডার কারণে ওই দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্য দুই যুবকের নাম সাবির আহমেদ (২২) ও মাজিদ গুলজার মির (৩০)। উত্তর কাশ্মীরের কুপওয়ারা জেলার ক্রালপোড়ার বাসিন্দা তারা।
শনিবার তারা গাড়ি করে শ্রীনগর যাচ্ছিল। কিন্তু রাস্তা বন্ধ থাকায় জওহর টানেলের কাছে তারা আটকে পড়ে। রবিবারের বিকেলের দিকে গাড়ির মধ্য থেকে তাদের অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, ভারতের সঙ্গে কাশ্মীরকে যুক্ত রাখে জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় সড়ক। এক দিন বন্ধ থাকার পর রবিবার বিকেলের দিকে কাশ্মীরমুখী রাস্তাটি খুলে দেওয়া হয়। তারপরই ওই দুই যুবকের মৃতদেহ উদ্ধারের খবর জানা যায়।
ওই দুই যুবকের মৃত্যুর ঘটনা ছড়িয়ে পড়ার পরেই বানিহাল রেলওয়ে চকে বিক্ষোভ দেখান গাড়ি চালকরা। তাঁদের দাবি, সরকার রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার জন্যই প্রবল ঠান্ডায় ওই দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় বিশাল পুলিশবাহিনী।
গাড়িচালকদের দাবি, প্রশাসনের উচিত গাড়িগুলোকে নতুন বানিহাল-কাজিগুন্ড টানেল দিয়ে বের করে দেওয়া। তাহলে এই সমস্যা হত না। গাড়িগুলি মাঝপথে আটকে থাকায় তাঁরা প্রবল ঠান্ডার মধ্যে চরম সমস্যায় পড়েছেন।
অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বানিহাল-কাজিগুন্ড টানেলের কাজ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। তাই এখন ওই রাস্তা দিয়ে যান চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।
তবে শুধু জম্মু-কাশ্মীর নয়, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ডেও চলছে প্রবল তুষারপাত। এই দুই রাজ্যে একাধিক জেলায় জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বন্ধ হয়ে গিয়েছে রাস্তাঘাট। যানচলাচল থমকে গিয়েছে।
মৌসম ভবন জানিয়েছে, চলতি মাসের পুরোটাই উত্তরের ওই তিন রাজ্যে প্রবল ঠান্ডা থাকবে। তবে উত্তর ভারতের অন্যান্য রাজ্যগুলি যেমন দিল্লি, হরিয়ানা, পঞ্জাব, রাজস্থানেও প্রবল শৈত্য প্রবাহ চলবে।