রাজ্যের আর্থ-সামাজিক মানোন্নয়নে নতুন নতুন প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার : মুখ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ২৩ জানুয়ারি।। নরেন্দ্র মোদিজি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নের প্রতি বিশেষ নজর ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েছেন৷ এই অ’লের অর্থনীতি, পরিকাঠামো, কর্মসংস্থান, শিল্প ও সংস্ক’তির উন্নয়নে নীতিরও পরিবর্তন হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব আজ উত্তর-পূর্বাঞ্চল পরিষদের প্লেনারি বৈঠকে৷

আজ শিলংয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা এনইসি-র চেয়ারম্যান অমিত শাহের নেত’ত্বে শুরু হয়েছে দু’দিনব্যাপী এই বৈঠক৷ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ডোনার মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী তথা এনইসি-র ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জিতেন্দ্র সিং এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রীরাও৷ মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বলেন, রাজ্যকে মডেল রাজ্য হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিগত আড়াই বছরে বিভিন্ন বড় উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার৷ রাজ্যের আর্থ-সামাজিক মানোন্নয়নে নতুন নতুন প্রকল্প চালু করা হচ্ছে এবং প্শাসন ও কাজের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এসেছে৷

বেড়েছে স্বরোজগারীর সংখ্যা এবং যুব সম্পদায়ের মধ্যে স্বনির্ভরতার মানসিকতা৷ রাজ্যের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজ্যের মাথাপিছু আয় যা ছিলো ২০১৭-১৮ বছরে ১,০০,৪৪৪ টাকা বেড়ে ২০১৯-২০ বছরে দাঁড়িয়েছে ১,২৩,৬৩০ টাকা অর্থাৎ ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে৷ জীবিকা অর্জনের পথ খুলে দিতে এবং গ্রামীণ জনগণের মধ্যে স্বনির্ভরতা তৈরি করতে খুব শীঘই মুখ্যমন্ত্রী স্বনির্ভর পরিবার যোজনা নামে একটি নতুন প্রকল্প চালু করা হবে৷ ফল, সব্জি চাষ, পোল্টি ফার্মিং, মৎস্য চাষ, প্রাণী পালন ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রায় ৬ লক্ষ গ্রামীণ পরিবারকে সহায়তা করা হবে এই প্রকল্পে৷ কোভিড-১৯-এর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শহর এলাকার ব্যবসায়ীদের জন্য চালু করা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী স্বনির্ভর যোজনা৷ এই প্রকল্পে দোকানদার, ব্যবসায়ী, রাস্তার পাশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ট্রেড লাইসেন্স, বীমা ইত্যাদির সুুযোগ পাবেন এবং এসসি/এসটি/ওবিসি/সংখ্যালঘু উন্নয়ন নিগম থেকে ঋণ দেওয়া হবে৷ সেজন্য ২০টি স্থানীয় স্বশাসিত সংস্থার এলাকায় বিশেষ শিবিরের আয়োজন করা হচ্ছে৷

কৃষি ক্ষেত্রে শস্য বৈচিত্র্য ও ভ্যালু এডিশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷ ভু-া এবং মাষকলাই ডাল, লাভজনক শস্য চাষ এবং অর্গানিক ফার্মিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷ এই প্রথম মুখ্যমন্ত্রী বর্গাদার যোজনায় রাজ্যের ৫০,০০০ বর্গাদার চাষির জন্য নাবার্ড থেকে ঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ ইতিমধ্যে ২০,৩৭৭ জন ভূমিহীন বর্গাদার এই ঋণ লাভ করেছেন৷ কৃষকদের আয় ২০২২ সালের মধ্যে দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী নিশ্চিত সেচ কর্মসূচিতে ২০২৪-২৫-এর মধ্যে ৬৫,৫২৯ হেক্টর কৃষি জমি সেচের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে৷ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ক’ষকদের কাছ থেকে নূ্যনতম সহায়কমূল্যে ধান ক্রয় শুরু করে এখন পর্যন্ত ২৭,৭৩৫ জন ক’ষক থেকে ৪৮,৭১৬ মেট্রিকটন ধান ক্রয় করে মোট ৮৬.৬৫ কোটি টাকা তাদের অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়েছে৷

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিদেশী ফুল চাষ, মাশরুম, ড্রাগন ফ্রুট, আনারস চাষেও নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷ আনারসের বাজারজাতকরণের সুুবিধার জন্য তিন জেলায় সোলার নির্ভর কুলিং চেম্বার নির্মাণ করা হয়েছে এবং সারা বছর যোগান রাখতে কেমিক্যাল স্ট্যাগারিং পদ্ধতিতে আনারস চাষ করা হচ্ছে৷

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?