অনলাইন ডেস্ক, ২১ জানুয়ারি।। আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার তত্ত্বাবধানে আগ্রায় টোডরমলের বাড়ি সংরক্ষণ ও সৌন্দর্যায়নের কাজ চলছিল। ফতেপুর সিক্রির কাছেই এই শতাব্দী প্রাচীন বাড়িটির বর্তমান অবস্থা খুবই জীর্ণ।
তাই খোঁড়াখুঁড়ি করে বাড়িটি মেরামত করার কাজ চলছে। এই কাজ করতে গিয়েই বেরিয়ে এল এক কুণ্ড। প্রত্নতাত্ত্বিকরা বলেছেন এটি মুঘল আমলের স্থাপত্যের এক নিদর্শন।
আগ্রার আর্কিওলজিস্ট সুপারিনটেনডেন্ট বসন্ত স্বরানকর বলেছেন, এই কুণ্ডটির মাঝে রয়েছে একটি ফোয়ারা। এই ফোয়ারাটি ৮.৭ মিটার লম্বা এবং ১.১ মিটার গভীর। এই কুণ্ডের দেওয়ালে রয়েছে পঙ্খের কাজ।
মুঘল আমলে ঝিনুক প্রভৃতির প্রাণীর খোলা পুড়িয়ে তা থেকে অতি মিহি গুঁড়ো পাওয়া যেত। তার সঙ্গে শাঁখের গুড়ো মিশিয়ে তৈরি করা হতো এক ধরনের আস্তরণ। এটাকেই পঙ্খ বলা হয়।
আকবরের আমলে টোডরমল ছিলেন মুঘল শাসিত ভারতের অর্থমন্ত্রী। আকবরের নবরত্ন সভার অন্যতম সদস্য ছিলেন টোডরমল। টোডরমলের বাসভবন বা বারাদারি সংস্কার করতে গিয়েই এই মুঘল আমলের কুণ্ড ও ফোয়ারার খোঁজ মিলেছে।
মুঘল আমলের অনেক প্রাসাদের বাগানেই এধরনের ফোয়ারা দেখতে পাওয়া গিয়েছে। এ ধরনের ফোয়ারা আছে ফতেপুর সিক্রি প্রাসাদে, দিল্লির লালকেল্লায়।
জানা গিয়েছে, এই ধরনের ফোয়ারাগুলির সঙ্গে সরাসরি নিকটবর্তী কোনও নদীর যোগ থাকত। সেখানে থেকেই জল এসে খেলে বেড়াত। উপচে পড়তে ফোয়ারা বেয়ে।
টোডরমলের বাসভবনের কাছে এ ধরনের প্রাচীন একটি কুণ্ড ও ফোয়ারা আবিষ্কার হওয়ায় রীতিমত খুশি আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া। এ ধরনের আর কোনও কুণ্ড এখানে আছে কিনা তা জানতে বারাদারির চারপাশে ভাল করে খোঁজ করে দেখা হবে বলেও এএসআই জানিয়েছে।