নির্যাতনের শিকার মা ও সন্তানকে উদ্ধারে গিয়ে আক্রান্ত চাইল্ড লাইন কর্মী

স্টাফ রিপোর্টার, বক্সনগর, ১৯ জানুয়ারি।। বধূ নির্যাতন থেকে শুরু করে শিশু নির্যাতন প্রতিদিন রাজ্যের কোন কোন স্থানে ঘটছে। এমনই একটি ঘটনা ঘটে বক্সনগর ব্লকের অন্তর্গত পুটিয়া পঞ্চায়েত এলাকায়। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বেলুয়ারচর এলাকার ৩নং ওয়ার্ডের বিল্লাল মিয়ার কন্যা পাখি আক্তারকে পুটিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা দুদুমিয়ার দ্বিতীয় পুত্র শাহরুখ খান (২৫) এর সঙ্গে তিন বছর পূর্বের সামাজিক রীতিনীতি মেনে বিবাহ হয়। শাহরুখ পেশায় গরু পাচারকারী। শুধু পাচারকারী নয়, সে এলাকার নেশাখোর নামেও পরিচিত।

শাহরুখ নেশায় আসক্ত হয়ে বিবাহের পর থেকে বধু পাখি আক্তারের উপর অকথ্য নির্যাতন করে আসছে। বধু পাখি বেগম জানায়, সোনামুড়া এক মেয়ের সঙ্গে পরক্রিয়া প্রেম রয়েছে তার স্বামীর। বিয়ের দীর্ঘ দুই বছর পর পাখি বেগমের একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। বয়স এক বছর। শিশুকন্যাটির জন্ম হওয়ার পর বধু ও শিশু কন্যার উপর নির্যাতনের মাত্রা আরো বৃদ্ধি পায়। গত ৩ মাস আগে পরক্রিয়া শাহরুখ খান সোনামুড়া নিদয়া এলাকা থেকে একটি মেয়েকে পালিয়ে নিয়ে আসে বিয়ে করে নেয়। নববধূকে পেয়ে প্রথম স্ত্রী ও কন্যা সন্তানকে আরো বেশি অত্যাচার শুরু করে স্বামী শাহরুখ।

নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে প্রথম স্ত্রী পাখি বেগম কলমচৌড়া থানা ও চাইল্ড লাইনের দ্বারস্থ হয়। মঙ্গলবার দুপুরে সিপাহীজলা চাইল্ড লাইনের একটি প্রতিনিধি দলও কলমচৌড়া থানার পুলিশ নির্যাতিতা বধু কন্যা সন্তানকে উদ্ধার করতে গেলে স্বামী শাহরুখ খান ও তার বড় ভাই কবির হোসাইন চাইল্ড লাইনের এক মহিলা কর্মীর উপর লাঠি দিয়ে আঘাত করে এবং কিল-ঘুসি, পরে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়। স্থানীয় সাংবাদিকরা এই খবরটি সংগ্রহ করতে গেলে তাদের ক্যামেরা করতে বাধা দেওয়া ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পুরো ঘটনাটি পুলিশের সামনেই ঘটেছিল।

সর্বশেষে পুলিশ অভিযুক্তদের আটক করতে গেলে ঘটনাস্থল থেকে স্বামী ও তার বড় ভাই পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। বর্তমানে নির্যাতিত মহিলা ও কন্যা সন্তান চাইল্ড লাইনের হেফাজতে রয়েছে। অপরদিকে চাইল্ড এর সদস্য আফসানা আক্তার এই ঘটনায় আক্রান্ত হওয়ায় দুই ভাইয়ের নামে কলমচৌড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। গত দুইদিন আগেও পুটিয়া এলাকার হাসিনা বিবি নামে এক বধু ও তার কন্যা সন্তানকে স্বামীর হাতে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতিত হয়ে। আর তাতেই নির্যাতিতা বধু কলমচৌড়া থানার দ্বারস্থ হতে হয়।

স্ত্রী স্বামীর বিরুদ্ধে মামলাও করেন। পুলিশ এখনও তাদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। কিছুদিন পর পরই পুটিয়া এলাকায় শোনা যায় নারী নির্যাতনের খবর। এর মূল কারণ রয়েছে গরু পাচারকারী থেকে শুরু করে, গাজা পাচারকারী, ইয়াবা পাচারকারী সবকিছুই পুটিয়া এলাকা দিয়ে রমরমা বাণিজ্য চলছে। এছাড়া পুটিয়া এলাকার যুবকরা এই সর্বনাশা মাদকদ্রব্য সেবনও করে থাকেন। তাই হয়তো নারী নির্যাতন বেশি বেশি ঘটছে পুটিয়া এলাকায়।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?