অনলাইন ডেস্ক, ১৯ জানুয়ারি।।এক দলিত দম্পতি গিয়েছিলেন মন্দিরে পুজো দিতে। কিন্তু ওই দলিত দম্পতিকে মন্দিরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। উপরন্তু মন্দিরে ঢোকার চেষ্টা করায় তাঁদের আড়াই লাখ টাকা জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় খাপ পঞ্চায়েত। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে তামিলনাড়ুর তিরুপাথুরের এক মন্দিরে।
জানা গিয়েছে, বছর ২৬-এর কনগরাজ এবং ২৩ বছরের জয়াপ্রিয়া যথাক্রমে মুরাছা পরায়ার ও থামানা পরায়ার সম্প্রদায়ের মানুষ। দুজনেই তপশিলি জাতি ভুক্ত। জয়াপ্রিয়া কনগরাজকে বিয়ে করতে চাইলে তাঁর পরিবার বেঁকে বসে। এরপর তাঁরা দুজনে চেন্নাই পালিয়ে গিয়ে ২০১৮-র জানুয়ারি মাসে বিয়ে করেন।
কনগরাজ চেন্নাইয়ে গাড়ি চালাতেন। কিন্তু করোনাজনিত লকডাউনের সময় তাঁর গাড়ি চালানোর চাকরিটি খোওয়া যায়। এরপরই তিনি স্ত্রী জয়াপ্রিয়াকে নিয়ে নিজেদের গ্রাম পল্লুরে ফিরে আসেন।
কিন্তু পরিবারের আপত্তিতে বিয়ে করার জন্য খাপ পঞ্চায়েত আগেই নির্দেশ দিয়েছিল, ওই দম্পতি গ্রামে ফিরলে তাঁদের আড়াই লাখ টাকা জরিমানা দিতে হবে। মঙ্গলবার কনগরাজ বলেন, তাঁদের গ্রামে জাতের বাইরে গিয়ে বিয়ে করলে জরিমানা দেওয়ার ব্যাপারটা খুবই সাধারণ।
যদিও জরিমানার অর্থ ৫ থেকে ১০ হাজারের মধ্যেই থাকে। কিন্তু তাদের জন্য এটা আড়াই লক্ষ টাকা করা হয়েছে। তিনি ২৫ হাজার টাকা দিতে রাজি বলেও জানান কনগরাজ। কিন্তু গ্রামের মোড়লরা ওই টাকা নিতে রাজি নন।
তাই কনগরাজ পাল্টা বলেছেন, তিনি একটি টাকাও জরিমানা দেবেন না। কনগরাজ আরও জানান, তিনি স্ত্রীকে নিয়ে গ্রামের মন্দিরে ঢুকতে গেলে সেখানেও তাঁদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন।
পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর পর দু’টি খাপ পঞ্চায়েতের দুই প্রধান জরিমানা তুলে নেওয়ার বিষয়ে রাজি হয়েছেন। যদিও জরিমানা তুলে নেওয়ার বিষয়টি এখনও তাঁরা ঘোষণা করেননি।
অন্যদিকে খাপ পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাঁরা কোনও রকম জরিমানা চাননি। পরিবারের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করার কারণেই দুই পরিবারের মধ্যে অশান্তি বাঁধে। গ্রামের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি করার জন্য তাঁদের ৫০০ টাকা জরিমানা জারি করা হয়েছিল।
যদিও কনগরাজ পাল্টা বলেছেন, গত সপ্তাহে তাঁর শ্বশুরের উপর হামলা চালিয়েছে খাপ পঞ্চায়েতের সদস্যরা এ বিষয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন কনগরাজ।