অনলাইন ডেস্ক, ১৮ জানুয়ারি।। ভাড়ার টাকা না মেটানোয় পাকিস্তানের একটি বিমান বাজেয়াপ্ত করল মালয়েশিয়া। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও একবার মুখ পুড়ল পাকিস্তানের। পাক বিমান বাজেয়াপ্ত করার কারণে ওই বিমানের ১১৮ জন যাত্রীকে চরম সমস্যায় পড়তে হয়। তাঁদের দু’দিন বিমানবন্দরে আটকে থাকতে হয়। ফলে তাঁদের সমস্ত কাজকর্ম শিকেয় উঠে।
পিআইএ-র এই কাজে সারা বিশ্বে নিন্দা শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, ২০১৫-য় পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স ভিয়েতনামের একটি সংস্থার কাছ থেকে দু’টি বোয়িং ৭৭৭ বিমান ভাড়া নিয়েছিল। সেই ভাড়া দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া ছিল। কোনওভাবেই পাক বিমান সংস্থা সেই ভাড়া মেটাচ্ছিল না।
সেই কারণেই বিমানটিকে স্থানীয় আদালতের নির্দেশের পর বাজেয়াপ্ত করা হয়। দু’দিন আগে কুয়ালা লামপুর বিমানবন্দরে পাক ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৭৭ বিমানটি বাজেয়াপ্ত করে মালয়েশিয়া সরকার।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বিমান বাজেয়াপ্ত করার এই খবর স্বীকার করা হয়েছে। পিআইএ জানিয়েছে, কূটনৈতিক বার্তার মাধ্যমে তারা এই মামলা লড়বে। তবে বিমানটি বাজেয়াপ্ত করা হলেও বিমানের যাত্রীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়।
বাজেয়াপ্ত করা বিমানটি করাচি থেকে মালয়েশিয়ায় গিয়েছিল। ওই বিমানের যাত্রীরা জানিয়েছেন, আচমকাই বিমান আটকে দেওয়ায় তাঁরা চরম সমস্যায় পড়েন। প্রথমে তাঁদের বলা হয়েছিল যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিমানটি আর যাবে না।
তবে শেষপর্যন্ত শনিবার রাতে বিমানের যাত্রীদের দু’টি দলে ভাগ করে ইসলামাবাদে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। রবিবার রাতে কুয়ালা লামপুরে আটকে থাকা সব বিমানযাত্রী দেশে ফিরে গিয়েছেন। তবে আটকে রয়েছেন ক্রু মেম্বাররা। পাক বিমানের যাত্রীদের অভিযোগ, পিআইএর তরফে তাঁদের সঙ্গে কোনও রকম সহযোগিতা করা হয়নি।
দু’দিন কার্যত তাঁরা বিমানবন্দরের মেঝেয় ঘুমিয়েছেন। মেলেনি খাবার এবং পানীয় জল। বেশ কয়েকজন যাত্রীর জিনিসপত্র এখনও কুয়ালা লামপুরে আটকে রয়েছে।