স্টাফ রিপোর্টার, বিশালগড়/আগরতলা, ১৭ জানুয়ারি।। রবিবার সকাল বেলায় ত্রিপুরা রাজ্যের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পীযূষ কান্তি বিশ্বাস সিপাহীজলা জেলার বিশালগড় কংগ্রেস ভবনটি খোলার জন্য বিশালগড়ে আসেন। এ কংগ্রেস ভবনটি খোলার জন্য উনি বিশালগড় মহকুমা পুলিশ আধিকারিক তাপস কান্তি পাল এবং বিশালগড় থানার ভারপ্রাপ্ত থানার ওসি দেবাশীষ সাহা কে জানিয়েছেন।সে মোতাবেক বিশালগড় থানার বড়বাবু দেবাশীষ সাহা কেন্দ্রীয় বাহিনী সহ বিশাল টিএসআর কর্মী রবিবার সকালে কংগ্রেস ভবনের সামনে মোতায়েন করেন।
কিন্তু এই কংগ্রেস ভবন খোলার জন্য যখন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পীযূষ কান্তি বিশ্বাস আসবেন সে খবর দুষ্কৃতকারীদের কানে যখন পৌঁছে তখন থেকেই প্রচুর পরিমাণে দুষ্কৃতকারীর দল কংগ্রেস ভবনের সামনে জড়ো হতে থাকে এবং কংগ্রেস ভবন খোলার আগ মুহূর্তে কিছু গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখেন যেন কংগ্রেস ভবনে যাওয়ার পূর্বেই পীযূষ কান্তি বিশ্বাস এর উপর হামলা করতে পারে। সেই সমস্ত ঘটনা গুলি উক্ত স্থানে উপস্থিত থেকে পুলিশ তামাশা দেখছেন তারপরও পুলিশ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পীযূষ কান্তি বিশ্বাসকে উক্ত স্থানের ঘটনা গুলি না জানিয়ে পীযূষ কান্তি বিশ্বাসকে বিশালগড় থানা থেকে সোজা বিশালগড় কংগ্রেস ভবন খোলার জন্য নিয়ে আসেন।
আর তখনই শুরু হয় উনার উপর রড দিয়ে হামলা একে একে সবাই উনার গায়ের উপর হামলে পড়েন এবং উনার পাশে থাকা গাড়িটিকে অন্যত্র চলে যাওয়ার জন্য জোর করেন কিছু করার মত পরিস্থিতি নেই। যখন উনার গাড়ির উপর হামলা হচ্ছিল ঠিক সেই সময় উনার চালক গাড়িটিকে পেছনদিকে ঘুরিয়ে সোজা বিশালগড় থানার মধ্যে নিয়ে আসে এবং উনার কনবয়টি আসার পূর্বে অনেক ইটপাটকেল খেয়ে বিশালগড় থানায় আসতে হয়।
বিশালগড় থানায় আসার পর প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং সেখান থেকে উনাকে নিয়ে যাওয়া হয় বিশালগড় মহকুমা হাসপাতালে। ততক্ষণ পর্যন্ত উনার উপর ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলি যখন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হতে শুরু করে ঠিক সে সময় খবর যায় ত্রিপুরা রাজ্যের সাংসদ প্রতিমা ভৌমিক এর কাছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সোজা চলে আসেন বিশালগড় মহকুমা হাসপাতালে এবং মহাকুমা হাসপাতালে এসে ওনার শারীরিক অবস্থার খবর নেন এবং ডাক্তারকে ওনার দ্রুত চিকিৎসার জন্য অনুরোধ করেন।
অন্যদিকে উনার উপর ঘটে যাওয়া এই আক্রমণের তীব্র ভাষায় নিন্দা জানান এবং যারা এই আক্রমণের সঙ্গে জড়িত আছেন তাদেরকে অতিসত্বর যেন গ্রেফতার করা হয় সেই কড়া বার্তা উনি বিশালগড় মহাকুমা পুলিশকে আদেশ দেন। অন্যদিকে বিশালগড় কংগ্রেস ভবন দীর্ঘদিন যাবৎ বন্ধ ছিল এবং দুষ্কৃতিকারীরা সরকার গঠন করার পূর্বেই সিপাহিজালা জেলার বিশালগড় মহাকুমার যে কংগ্রেস ভবনটি ছিল তা পুড়ে ছারখার করে দেয়।
সেই কংগ্রেস ভবনটিকে পুনর্জীবিত করার জন্য রবিবার যখন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আসেন এবং আসার পূর্বে যখন উনি আক্রান্ত হয়েছেন ঠিক সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই আগরতলা কংগ্রেস ভবন ১৮ তারিখের জন্য ১২ ঘন্টার ত্রিপুরার বনধ্ ঘোষণা করেন।তাছাড়া পীযূষ কান্তি বিশ্বাস জানান পুলিশ বর্তমানে শাসকদলের কাঠপুতুল এ পরিণত হয়েছেন তাদের সামনেই রবিবার উনার উপরে আক্রমণ ঘটিয়েছেন বিশালগড় থানার বড়বাবুর থেকে শুরু করে ছোট বাবু পর্যন্ত সবার সামনেই দুষ্কৃতকারীরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন রকম আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে।
কোন রকমভাবে রক্ষা করার দায়িত্ব পালন করছে এমনই অভিযোগ করছেন প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি। যদি উনারা শাসকদলের হয় কোন রকম পদক্ষেপ নেন তাহলে তাদের ত্রিপুরা রাজ্যের কোথাও যে বদলি করা হবে সেটা ওনারা জানতেই পারবেন না। তাই উনারা বর্তমানে বিশালগড় থানার মধ্যে থেকে শাসকদলের কথার মাধ্যমে ওঠাবসা করছেন বলেই রবিবার উনারা এরকম জায়গায় দাঁড়িয়েছেন।
এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা ছিল খুবই জঘন্য এবং ন্যক্কারজনক।যদি পুলিশ সঠিকভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করতেন তাহলে ত্রিপুরা রাজ্যের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পীযূষ কান্তি বিশ্বাস এর উপর এরকম ঘটনা সংঘটিত হতে পারত না বলেও আশা ব্যক্ত করেন ত্রিপুরা রাজ্যের বিভিন্ন শুভবুদ্ধি সম্পন্ন ব্যক্তিগণ।শাসক দলের কেন এত ভয় কেন উনারা বর্তমানে এ কংগ্রেস ভবনটিকে খুলতে দিচ্ছেন না তাদের উপর থেকে মানুষের আস্থা দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে বলেও মনে করেন।
ত্রিপুরা রাজ্যের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পীযূষ কান্তি বিশ্বাস এই আক্রমণ করার ক্ষেত্রে ত্রিপুরা রাজ্যের যুব মোর্চার সভাপতি সম্পূর্ণরূপে দায়ী আছেন বলো আশা ব্যক্ত করেন। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পীযূষ কান্তি বিশ্বাস জানান বিশালগড় যুব মোর্চা সভাপতি থেকে শুরু করে মন্ডল সভাপতি তাদের দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা রয়েছেন এবং দুজনের এই বাক-বিতণ্ডার ফলে একশ্রেণীর কার্য কর্তারা রবিবার উনার উপর আক্রমণ সংগঠিত করেছেন।