স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ১৬ জানুয়ারি।।নারীরাই হলেন ভারতীয় সংস্কৃতির ধারক ও বাহক৷ মা বোনেরা আমাদের সংস্কৃতির পরম্পরা ধরে রাখার ক্ষেত্রে একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন৷ উত্তর পূর্বাঞ্চল সংস্কৃতি কেন্দ্র এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর আয়োজিত ৩ দিনব্যাপী পৌষ পার্বণ ২০২১ এর সমাপ্তি অনুষ্ঠানে উপমুখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মা একথা বলেন৷ সদর মহকুমার লঙ্কামুড়া আলপনা গ্রামে গত ১৪ই জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছিল প্রথম বারের মতো ৩ দিনব্যাপী পৌষ পার্বণ৷
পৌষ পার্বণের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে উপমুখ্যমন্ত্রী শ্রীদেববর্মা বলেন, সমাজের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো সংস্কৃতি৷ সংস্কৃতি না থাকলে সমাজ শক্তিহীন হয়ে পড়ে এবং সংস্কৃতি ছাড়া কোন রাষ্ট্রের অস্তিত্ব থাকেনা৷ তিনি বলেন, পৌষ পার্বণকে ঘিরে মানুষের মধ্যে একাত্মতা বাড়ে৷ উপমুখ্যমন্ত্রী বলেন, পৌষ পার্বণের মত অনুষ্ঠানগুলি হচ্ছে আমাদের দেশের এক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য৷
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে সাংসদ প্রতিমা ভৌমিক বলেন, একটি ছোট্ট প্রয়াসে কালচারেল হাবের রূপ ফুটে উঠেছে আলপনা গ্রামে৷ রাজ্যের কৃষ্টি সংস্কৃতিকে সকলের সামনে তুলে ধরেছেন আলপনা গ্রামের শিল্পীরা৷ তিনি বলেন, আমাদের সংস্কৃতিই আমাদের ধরোহর৷ সংস্কৃতি আমাদের বাঁচিয়ে রাখে৷ সাংসদ শ্রীমতি ভৌমিক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভোকাল ফর লোকাল স্প্লোগানকে সামনে রেখে স্থানীয় উৎপাদন কে প্রাধান্য দিয়ে প্রথম বারের এই মেলা পূর্ণতা লাভ করেছে৷
আলপনা গ্রামের গা ঘেষে গড়ে উঠেছে আধুনিকমানের আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর৷ এর পাশেই গড়ে উঠছে ১০০০ ফ্ল্যাটের লাইট হাউস এবং আগরতলা চেকপোষ্টে গড়ে উঠেছে ৫০০ আসন বিশিষ্ট গ্যালারী, যাতে বসে পর্যটকরা জাতীয় পতাকা নামানোর দৃশ্য দেখতে পাবেন৷
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় উৎপাদিত পণ্যের সংরক্ষণে এখানে একটি হিমঘর, একটি সীমান্ত হাট এবং সব্জী বাজার তৈরীর পরিকল্পনা রয়েছে৷ সবমিলিয়ে সংস্কৃতি ও পর্যটনের একটি উৎসস্থল হিসাবে এই গ্রামকে আগামী দিন দেখা যাবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন৷ সংস্কার ভারতীর সর্বভারতীয় যুগ্ম সম্পাদক আমির চন্দ্রা বলেন, আমাদের সংস্কৃতি আমাদের পরিচয়৷
বিভিন্ন অঞ্চলের সংস্কৃতির ধরণ আলাদা হলেও সংস্কৃতিই ভারতবর্ষকে এক সুুতায় বেঁধে রেখেছে৷ এছাড়া বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের বিশেষ সচিব অভিষেক চন্দ্রা৷ স্বাগত ভাষণ রাখেন তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের অধিকর্তা রতন বিশ্বাস৷
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিধায়ক ডা. দিলীপ দাস৷ মেলাতে স্থানীয় উৎপাদিত পণ্য এবং পিঠা পুলির পশরা নিয়ে স্থানীয়রা দোকান খোলেন৷ প্রতি সন্ধ্যায় আয়োজিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান৷