স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ১৬ জানুয়ারি।। সমগ্র দেশের সাথে আজ রাজ্যেও কোভিড-১৯ টিকাকরণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে৷ এই উপলক্ষ্যে আগরতলা টাউন হলে কোভিড-১৯ টিকাকরণের রাজ্যভিত্তিক এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে৷ সেখানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজ্যের ১৭টি স্বাস্থকেন্দ্রে টিকাকরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব৷ অনুষ্ঠানে তিনি রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, আজ দেশের সাথে সাথে রাজ্যের জন্যও একটা ঐতিহাসিক দিন৷
কারণ রাজ্যে যেদিন প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল সেদিন জিবি হাসপাতাল সহ পুরো আগরতলা শহর অঘোষিত কার্ফুতে পরিনত হয়েছিল৷ রাজ্যের প্রত্যেকের মধ্যেই আতঙ্ক তৈরী হয়েছিল৷ এই আতঙ্কের পরিবেশ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কোনও রাস্তা পাওয়া যাচ্ছিল না৷ তখন দেশের প্রধানমন্ত্রীই আমাদের করোনা মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছিলেন৷ প্রধানমন্ত্রীর ভোকাল ফর লোক্যাল আহ্বানেই আজ দেশের বিজ্ঞানীরা সম্পর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরী করেছেন৷
রাজ্যে প্রথম পর্যায়ে কোভিড-১৯ টিকাকরণ করা হবে চিকিৎসক, নার্স সহ সকল স্বাস্থ্যকর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের৷ তাদের ৪৫ হাজার ৪২০টি ডোজ দেওয়া হবে৷ এরজন্য স্বাস্থ্য দপ্তর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে৷ দ্বিতীয় পর্যায়ে আরক্ষাকর্মী, রাজস্ব দপ্তরের কর্মী, পুরকর্মচারী এবং বিপর্যয় মোকাবিলার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের টিকাকরণ করা হবে৷
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, করোনা সংক্রমন মোকাবিলার সময় রাজ্যের জনগণের মধ্যে আত্মনির্ভরতা, স্বনির্ভর হওয়া, একে অপরকে সহযোগিতা করা এবং স্বাভিমানতার মানসিকতা তৈরী হয়েছে৷ এই গুণগুলি সব সময় নিজেদের মধ্যে ধরে রাখতে হবে৷ কারণ এইগুলিই ত্রিপুরাকে শ্রেষ্ঠ ও সমৃদ্ধিশালী রাজ্য হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে৷
তিনি বলেন, রাজ্যবাসী কঠোর পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন৷ রাজ্য সরকার লকডাউন চলাকালীন রাজ্যের জনগণকে স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে স্বনির্ভর পরিবার যোজনা, মুখ্যমন্ত্রী স্বনির্ভর যোজনা ইত্যাদি চালু করেছেন৷ স্বনির্ভর পরিবার যোজনার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে আত্মনির্ভরতার মানসিকতা তৈরী হওয়ার ফলেই করোনা সংকটের সময় রাজ্য আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়েনি৷
শহর ও নগর এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী স্বনির্ভর যোজনা চালু হয়েছে৷ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বিনামূল্যে ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে৷ তাদের বীমার আওতায় আনার পাশাপাশি ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে৷ প্রধানমন্ত্রীও রাজ্যের উন্নয়নে বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করে চলেছেন৷
রাজ্যে আধুনিকতম ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট নির্মাণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ৯৩ কোটি টাকা ম’র করেছে৷ তাছাড়াও মাতাবাড়ীর উন্নয়নের জন্য ৩৭ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা মঞ্জুর করেছে কেন্দ্রীয় সরকার৷ কোভিড-১৯ টিকাকরণের রাজ্য ভিত্তিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের মিশন ডিরেক্টর ডাঃ সিদ্ধার্থ শিব জয়সবাল৷
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত সচিব কিরণ গিত্যে, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার ভারপ্রাপ্ত জেলাশাসক সন্দীপ এন মহাত্মে, ত্রিপুরা হেলথ সার্ভিসের অধিকর্তা ডাঃ শুভাশিষ দেববর্মা এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের অধিকর্তা ডাঃ রাধা দেববর্মা৷