দুটি ক্ষেত্রেই সহবতের সীমানা ছাড়িয়ে যান অস্ট্রেলীয় সমর্থকরা, এমনই অভিযোগ করা হয়েছে ভারতের তরফে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বোর্ডের এক কর্তা সংবাদ সংস্থাকে বলেছেন, “সিরাজকে ‘ব্রাউন ডগ’ এবং ‘বিগ মাঙ্কি’ বলে ডাকা হচ্ছিল। দুটোই তীব্র বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য। এটা শোনার পরেই ব্যাপারটা মাঠের আম্পায়ারদের নজরে আনা হয়। এ ছাড়াও, ওরা ক্রমাগত বুমরাকে গালিগালাজ করে যাচ্ছিল।”
অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসের ৮৬তম ওভার। ডিপ ফাইন লেগে ফিল্ডিং করতে থাকা সিরাজ ছুটে এসে স্কোয়ার লেগ আম্পায়ারকে কিছু বলতে থাকেন। বাকি ভারতীয় ক্রিকেটাররাও যোগ দেন। খেলা বন্ধ থাকে ১০ মিনিট। ইতিমধ্যে নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ গিয়ে ছ’জনকে মাঠ থেকে বের করে দেয়।
তবে ঘটনার জল গড়ায় অনেক দূর। অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট বোর্ড বিবৃতি প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়ে নেয়। নিউসাউথ ওয়েলস প্রশাসনের সঙ্গে সমান্তরাল তদন্ত শুরু করা হয়েছে জানিয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান শন ক্যারল ক্ষমা চেয়ে লেখেন, ‘‘এই ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণের কড়া নিন্দা করে অস্ট্রেলিয়া। কেউ যদি বর্ণবিদ্বেষমূলক আচরণ ও মন্তব্য করে থাকেন, তাঁকে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া স্বাগত জানায় না।’’
তীব্র নিন্দা করেছে আইসিসিও। এমনকি দোষী প্রমাণিত হলে আয়োজক দেশের ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে তারা। আলাদা বিবৃতিতে আইসিসি জানিয়েছে, ‘‘সিডনি ক্রিকেট মাঠে ভারত বনাম অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় টেস্টে দর্শকদের বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্য ও আচরণের তীব্র নিন্দা করা হচ্ছে।
এই ঘটনার তদন্তের জন্য ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে যাবতীয় সাহায্য করা হবে।’’ আইসিসির চিফ এগজিকিউটিভ মনু সাহনি বলেন, ‘‘ক্রিকেটে এই ধরনের বর্ণবৈষম্যের সমর্থকদের কোনও স্থান নেই। হতাশাজনক ব্যাপার এটাই যে একদল ক্ষুদ্র সংখ্যক দর্শক মনে করেন, এই ধরনের বর্ণবিদ্বেষমূলক আচরণ ও ব্যবহার গ্রহণযোগ্য হবে।’’