অনলাইন ডেস্ক, ৮ জানুয়ারি।। চলতি বছরের শুরুতেই দেশের দুই সংস্থার তৈরি টিকাকে ছাড়পত্র দিয়েছে কেন্দ্র। এই মুহূর্তে প্রথম তিন পর্যায়ে কারা টিকা পাবেন তার তালিকা তৈরি করছে সরকার। গোটা দেশজুড়ে কতজন প্রথম দফায় টিকা পাবেন এবং কত দ্রুত সেই টিকা পৌঁছে দেওয়া যায় সে বিষয়ে বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বসতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার ১১ জানুয়ারি বিকেলে এই বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী।
জানা গিয়েছে, দেশের প্রতিটি রাজ্যে আমজনতার কাছে কিভাবে দ্রুত ভ্যাকসিন পৌঁছে দেওয়া হবে তা নিয়েই প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন। শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন জানিয়েছেন, আর কয়েক দিনের মধ্যেই দেশবাসীকে টিকা দেওয়ার কাজ শুরু হবে। ইতিমধ্যেই দেশের প্রতিটি রাজ্যে টিকাকরণের মহড়া চলছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের প্রতিটি প্রান্তে কত দ্রুত ভ্যাকসিন পৌঁছে দেওয়া যাবে সেটাই মূল আলোচ্য। সেই বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত চূড়ান্ত করতে চাইছেন।
প্রথম দফায় কারা টিকে পাবেন তা নিয়ে জোরদার আলোচনা চলছে। করোনা যোদ্ধা ছাড়া পরবর্তী ধাপে কাদের টিকা দেওয়া হবে সে নিয়ে মানুষের মনে কৌতুহল রয়েছে। প্রথম দিকে শুধু পরিবারের বয়স্ক ব্যক্তিরা ভ্যাকসিন পাবেন, নাকি সকলেই ভ্যাকসিন পাবেন তা নিয়ে জানতে আগ্রহী মানুষ। তবে এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রের পক্ষ থেকে কেউই এই প্রশ্নের উত্তর স্পষ্টভাবে জানায়নি। অনেকেই মনে করছেন, মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।
এই মুহূর্তে দেশে যে পরিমাণ ভ্যাকসিনের চাহিদা রয়েছে তা উৎপাদন করতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। টিকা প্রস্তুতকারী দুই সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলতি বছরে খোলাবাজারে টিকা মেলার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। কারণ তাদের উৎপাদিত সবা টিকা চলে যাবে সরকারের কাছে। তাই ২০২২-এর আগে হয়তো খোলা বাজারে করোনার টিকা মিলবে না।
নাম গোপন করে কেন্দ্রীয় সরকারের এক শীর্ষস্থানীয় আধিকারিক জানিয়েছেন, মনে রাখতে হবে সেরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া ও ভারত বায়োটেক এই দু’টি সংস্থা মাসে ছয় কোটির বেশি টিকা উৎপাদন করতে পারবে না। অর্থাৎ প্রথম দফায় ৩০ কোটি মানুষকে টিকার দু’টি করে ডোজ দিতে হলে লাগবে ৬০ কোটি ভ্যাকসিন। যা তৈরি করতে কমপক্ষে ১০ মাস সময় লাগবে। তারপর খোলাবাজারে টিকা আসার কথা ভাবা যেতে পারে। অর্থাৎ এই মুহূর্তে বলা যায়, চলতি বছরে খোলাবাজারে এই দুই সংস্থার টিকা আসা খুবই কঠিন।