অনলাইন ডেস্ক, ৮ জানুয়ারি।। হোটেলকর্মীর শরীরে ইংল্যান্ডের নতুন করোনা স্ট্রেন ধরা পড়ার পরে ব্রিসবেনে ফের চতুর্থ টেস্ট আয়োজন নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্নচিহ্ন। পরিস্থিতি সামাল দিতে কুইন্সল্যান্ড প্রাদেশিক সরকার নতুন ভাবে তিন দিনের লকডাউনের কথা ঘোষণা করেছে। যার অর্থ ভারতীয় দলের পক্ষে কোনও অবস্থায় কোয়ারেন্টাইনের বাইরে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। কাজেই অনেকে মনে করছেন, শেষপর্যন্ত গাব্বা টেস্ট বাতিল হয়ে যাবে না তো?
অস্ট্রেলিয়ার একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন করে তিন দিনের লকডাউন ঘোষিত হওয়ায় ম্যাচ আয়োজন নিয়ে চরম বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে শেষ টেস্ট আয়োজন করার বিষয়ে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। তবে তা কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে কেউ জোরের সঙ্গে কিছু বলতে পারছেন না। নতুন ভাবে লকডাউনের অর্থ, সেখানে কোনও বিমান প্রবেশ করতে পারবে না। যদি বিশেষ বিমানে ভারতীয় দল সেখানে পৌঁছয়ও, তা হলেও রাহানেদের আরও কঠোর জৈব সুরক্ষিত বলয়ের মধ্যে থাকতে হবে। সেটা ভারতীয় বোর্ড আদৌ মানবে কি না, তা নিয়েও সন্দিহান অনেকে।
দ্বিতীয়ত, ব্রিসবেন টেস্টে প্রত্যেক দিন ৩৬,০০০ দর্শককে খেলা দেখার অনুমতি দিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। যা দেখে অনেকেই বলতে শুরু করেছেন, নতুন করে করোনা সংক্রমণের কারণে যেখানে তিন দিনের লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে, সেখানে দর্শকদের মাঠে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে কী করে? এবং ভারতীয় দলকেও তা হলে কেন কঠোরতম সুরক্ষা বলয়ের মধ্যে থাকার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে?
আর সেই দুর্বোধ্য নিয়ম নিয়েই মুখ খুলেছেন সুনীল গাভাসকার। তিনি জানিয়েছেন, কুইন্সল্যান্ড সরকার যেমন তাদের নাগরিকদের করোনার হাত থেকে রক্ষা করতে দায়বদ্ধ, তেমনই ক্রিকেটারদেরও সুরক্ষিত রাখা ভারতীয় বোর্ডের কর্তব্যের মধ্যেই পড়ে। তেমন মনে হলে সেখানে টেস্ট না-ও হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গাভাসকার বলেছেন, “সিডনিতে সাধারণ মানুষ খেলা দেখর সঙ্গে দিব্যি রেস্তরাঁয় গিয়ে আনন্দ করছেন, তা হলে ভারতীয় ক্রিকেটারদের বাইরে বেরোতে দিতে অসুবিধা কী থাকতে পারে।
দ্বিতীয়ত ব্রিসবেনে প্রত্যেক দিন ৩৬,০০০ দর্শক খেলা দেখবেন। বল গ্যালারিতে গিয়ে পড়লে কেউ সেটা ছুড়ে দিতে পারে মাঠের মধ্যে। তা থেকেও তো করোনা সংক্রমণ হতে পারে। তা হলে ক্রিকেটারদের জীবন নিয়ে নিশ্চয়তা কোথায় থাকছে? কুইন্সল্যান্ড সরকার যদি তাদের নাগরিকদের রক্ষা করতে দায়বদ্ধ হয়ে থাকে, তা হলে বিসিসিআই-ও ক্রিকেটারদের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেবে। তা নিয়ে কারও কিছু বলার থাকতে পারে বলে আমি মনে করি না।”