প্রথম পর্যায়ে টিকাকরণের ক্ষেত্রে প্রতিটি রাজ্যের স্বাস্থ্যকর্মী, আরক্ষাকর্মী, সিভিল ডিফেন্স, হোমগার্ড, পুর কর্মচারি, সংশোধনাগারের কর্মী এবং প্রাক’তিক বিপর্যয় মোকাবিলার সাথে যুক্ত কর্মীদের টিকাকরণের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে৷ কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট সচিব কোভিড-১৯ টিকা বিতরণের গাইডলাইন সম্পর্কে জানান, ভ্যাকসিনেশন ল্যাবরোটরি থেকে টিকা প্রতিটি রাজ্যে বিমানে পাঠানো হবে৷ রাজ্যগুলি বিমানবন্দর থেকে টিকা সংগ্রহ করে স্টেট ভ্যাকসিন স্টোরে নিয়ে যাবে৷ সেখান থেকে রেফ্রিজারেট ভ্যানে টিকা নিয়ে যাওয়া হবে জেলা ভ্যাকসিন স্টোরে৷ রেফ্রিজারেট ভ্যানের মাধ্যমে জেলা ভ্যাকসিন স্টোর থেকে প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলিতে পাঠানো হবে৷ সেখান থেকে টিকা পৌছানো হবে টিকাকরণ কেন্দ্রগুলিতে৷
বৈঠকে ক্যাবিনেট সচিব আরও জানান, ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সারাদেশে মোট ৭৯.৯১ লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী কোভিড-১৯ টিকা গ্রহণের জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন৷ এই ভার্চয়াল বৈঠকে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যসচিবগণ কোভিড-১৯ টিকাকরণের প্রস্তুতি বিষয়ে কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট সচিবকে অবহিত করেন৷ দেশের বিভিন্ন রাজ্যের পাশাপাশি ত্রিপুরাও কোভিড-১৯ টিকাকরণ সুুচারুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রস্তুতি নিয়েছে৷ বৈঠকে জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের মিশন অধিকর্তা ডা. সিদ্ধার্থ শিব জয়সবাল জানান, রাজ্যে প্রথম পর্যায়ে কোভিড টিকাকরণের জন্য স্বাস্থ্যকর্মী, অঙ্গনওয়াড়িকর্মী, আরক্ষাকর্মী, ৫০ বছরের উর্দ্ধে ব্যক্তি যাদের বিভিন্ন রোগের উপসর্গ আছে তাদের চিহ্ণিত করার কাজ চলছে৷
ইতিমধ্যেই ৪৫ হাজার ৪২০ জনের নাম চিহ্ণিত করে পোর্টালে আপলোড করা হয়েছে৷ তিনি জানান, রাজ্যের প্রতিটি গ্রাম প’ায়েত বা পুর ওয়ার্ডে ১টি করে সেশন সাইট রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে৷ রাজ্যে টিকাকরণের জন্য মোট ২,২২৯টি সেশন সাইট চিহ্ণিত করা হয়েছে৷ প্রথম পর্যায়ে টিকাকরণের জন্য রাজ্যে ১৫২টি সেশন সাইট চিহ্ণিত করে রাখা হয়েছে৷ এরমধ্যে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার ৩০টি, খোয়াই জেলার ৯টি, সিপাহীজলা জেলার ১৮টি, গোমতী জেলার ১৭টি, দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার ২৬টি, ধলাই জেলার ২১টি, ঊনকোটি জেলার ১৩টি এবং উত্তর ত্রিপুরার জেলার ১৮টি সেশন সাইট চিহ্ণিত করা হয়েছে৷ প্রতিটি সেশন সাইটে ৬ সদস্যবিশিষ্ট একটি টিম থাকবে৷
প্রত্যেক জেলাশাসকদের তাদের এলাকার সমস্ত সেশন সাইটগুলিতে প্রয়োজনীয় সুুযোগ সুুবিধা প্রদানের জন্য ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে৷ ব্লকস্তরের সেশন সাইটগুলি তদারকি করবেন সংশ্লিষ্ট এলাকার বিডিওগণ এবং মহকুমাস্তরের সেশন সাইটগুলি তদারকি করবেন মহকুমা শাসকগণ৷ মিশন অধিকর্তা আরও জানান, গত ৮ জানুয়ারি ১৫২টি সেশন সাইটেই কোভিড-১৯ টিকার সফল ড্রাইরান সম্পন্ন হয়েছে৷ মিশন অধিকর্তা জানান, স্টেট ভ্যাকসিন স্টোরে প্রায় ১৫ লক্ষ ডোজ সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত কোল্ড চেইন স্পেস রয়েছে৷ পাশাপাশি জেলা ভ্যাকসিন স্টোরেও টীকা সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে৷ প্রতিটি কোল্ড চেইনের সর’ামগুলি টেকনিক্যাল টিমের দ্বারা পরীক্ষা করা হয়েছে৷
তিনি জানান, আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিটি জেলায় আইস লাইনড রেফ্রিজারেটর এবং ডিপ ফ্রিজ পৌছানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷ মিশন অধিকর্তা জানান, গত ৭ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রতিটি রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীদের সাথে কোভিড টিকাকরণ নিয়ে আলোচনা করেন৷ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশে কোভিশিল্ড এবং কোভ্যাকসিন নামে দু’টি কোভিড টিকার অনুমোদন পাওয়া গেছে৷ রাজ্যের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যসচিব কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নিকট রাজ্যের জন্য ৮টি রেফ্রিজারেটেড ভ্যান প্রদান করার প্রস্তাব রেখেছেন৷ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে এই ভার্চয়াল বৈঠকে রাজ্যের জন্য কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন কলকাতাস্থিত রিজিওন্যাল মেডিক্যাল স্টোর থেকে গ্রহণ করার বিষয়েও আলোচনা হয়৷