নয়াদিল্লিতে রাজ্যের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর সাথে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক

স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা ৭ জানুয়ারি।। নয়াদিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব আজ কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী পিযুষ গোয়েলের সাথে এক বৈঠকে মিলিত হয়ে রাজ্যের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন৷ কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর সাথে আলোচনার মুখ্য বিষয় ছিল প্রাক কোভিড সময়ে ত্রিপুরা থেকে যেসব এ’প্রেস ট্রেন পরিষেবা চালু ছিল সেগুলি পুনরায় চালু করা, ডেমু ট্রেন সার্ভিস পুনরায় চালু করা, সাবম রেল ইয়ার্ডের কাজ দ্রত সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করা৷ আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, ২০১৯-এর ৩রা অক্টোবর চালু হওয়া দু’টি ডেমু ট্রেনই ২০১৯-এর ডিসেম্বর থেকে বন্ধ হয়ে আছে৷ যদিও এখন দু’একটা ট্রেন চলছে কিন্তু রাজ্যে ডেমু ট্রেন পরিষেবা এখনো চালু হয়নি৷

তাই মুখ্যমন্ত্রী এগুলি পুনরায় চালু করার অনুরোধ জানান৷ অন্যদিকে প্রাক কোভিড সময়ে ছয়টি এ’প্রেস ট্রেন চলতো ত্রিপুরা ও ভারতের বিভিন্ন জায়গার মধ্যে৷ এখন আগরতলা-নয়াদিল্লি রাজধানী এ’প্রেস ও আগরতলা-দেওঘর এ’প্রেস ট্রেন দু’টি চলছে৷ তিনদিকে বাংলাদেশ দিয়ে ঘেরা ত্রিপুরার মানুষ বিমান পরিষেবাকে বাদ দিলে রাজ্যের অভ্যন্তরে ও রাজ্যের বাইরে যাতায়াতের জন্য মূলত: এই ডেমু ও এ’প্রেস ট্রেনের উপর নির্ভরশীল৷ তাই মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের মানুষের চাহিদার কথা চিন্তা করে সমস্ত এ’প্রেস ট্রেন পুনরায় চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীকে৷

তিনি বলেন, মূলত: তীর্থযাত্রীরাই আগরতলা-দেওঘর এ’প্রেস এর পরিষেবা গ্রহণ করেন৷ তাঁদের সুুবিধার্থে তিনি আগরতলা স্টেশন থেকে ট্রেনটি ছাড়ার সময় রাত ১০:২৫ এর বদলে রাত ৯টা বা কমপক্ষে রাত দশটা করতে অনুরোধ করেন৷ কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী পেঁচারথল, কৈলাসহর এবং ধর্মনগর রেলস্টেশন আগরতলা হয়ে ধর্মনগর- বিলোনীয়া বিকল্প রেল লাইন এবং বিলোনীয়া-ফেনী (ভারতের অংশে) রেল লাইনের সমীক্ষার কাজ দ্রত সম্পন্ন করার বিষয়ে ভারতীয় রেল এর ইতিবাচক ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানান৷ মুখ্যমন্ত্রী ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের কথা বিবেচনা করে ফেনী-বিলোনীয়া (বাংলাদেশ অংশে) রেল লাইনের কাজ হাতে নেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সহায়তা কামনা করেন৷ তিনি বলেন, বিলোনীয়া-ফেনী (বাংলাদেশ অংশে) রেল লাইনের সমীক্ষার কাজ শেষ হয়েছে এবং তার রিপোর্ট রেলওয়ে বোর্ড বিদেশ মন্ত্রকের কাছে পাঠিয়েছে অনুমোদনের জন্য৷

তাছাড়া শীঘই ফেনী নদীর উপর নির্মিয়মান মৈত্রী সেতু চালু হয়ে গেলে সেদিকেও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা খুলে যাবে এবং তখন বাংলাদেশের চ-গ্রাম বন্দরের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপন হলে এই পথে মানুষের যাতায়াত বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়৷ সাবমে যে আই সি পি টি অনুমোদন হয়েছে সেটির কাজও শীঘই শুরু হয়ে যাবে৷ তাই আগামী দিনগুলিতে শুধু ত্রিপুরার সাথে নয়, উত্তর পূর্বা’লের অন্যান্য রাজ্যের রেল নেটওয়ার্কের উপরও যাত্রীর চাপ পড়বে৷ তাই মুখ্যমন্ত্রী সাবমে রেল ইয়ার্ডটির কাজ দ্রত শেষ করার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করতে রেলমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন৷

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?