অনলাইন ডেস্ক, ৭ জানুয়ারি।। হাইহিলকে মহিমান্বিত করতে ফ্যাশন ও বিনোদন দুনিয়ায় নানান কথা শোনা যায়। হাইহিল নাকি আত্মবিশ্বাস কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। যদিও অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন অন্যরকম কিছু। এর কারণে কোমরে, পিঠে-পায়ে ব্যথা তো বটেই, হতে পারে অস্থিঘটিত ও স্নায়ুর জটিল রোগও।
হিল বেশি উঁচু হলে শরীর নিজের ভারসাম্য রক্ষার জন্য কিছু পরিবর্তন করে দাঁড়ানোর কায়দায়। শিরদাঁড়ার স্বাভাবিক ‘S’ গড়ন বিঘ্নিত হয় তখনই। চাপ পড়ে নিতম্ব, পিঠ, পায়ের পেশি এবং সর্বোপরি হাঁটুর ওপর। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাইহিল বেশি পরলে শরীরের ওজন বণ্টনের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়। পায়ের পাতার ওপর চাপ বাড়ে।
অল্প সময়ের জন্য শরীর এই তারতম্য সয়ে নিলেও, সমস্যা বাড়ে নিয়মিত হাইহিল পরলে। পরিসংখ্যান বলছে, ৭২% নারী জীবদ্দশার কোনো না কোনো সময়ে হাইহিল পরেন। তাদের একটা বড় অংশ বিশেষ অনুষ্ঠানের সময়েই কেবল হাইহিল পরলেও, অনেকেই নিয়মিত স্টিলেটোর মতো জুতো পরে থাকেন।
ওজনের বণ্টন ঠিকমতো না হওয়ায় অধিকাংশ সময়েই পড়ে গিয়ে বিপদ বাধানোর আশঙ্কা থাকে তাদের ক্ষেত্রে। হাড় না ভাঙলেও অধিকাংশ নারী যারা দীর্ঘক্ষণ হাইহিল পরে থাকেন, তারা ভুগছেন কাফ মাসেলে যন্ত্রণা, লো ব্যাক পেন এবং পায়ের পাতায় যন্ত্রণা নিয়ে।
কাফ মাসেলের ওপর বেশি জোর পড়তে থাকলে গোড়ালির পেছনের দিকে টেন্ডো অ্যাকাইলিসের মতো সমস্যাও দেখা দিচ্ছে অনেকের। এমনকি শিরদাঁড়ার আকার বদলে যাওয়ায় ফোরামিনাল স্টেনোসিসের মতো রোগও দেখা দেয়।
খুব টাইট অথবা ছুঁচোলো মুখের জুতো পরলে, অনেক সময়ে পায়ের পাতার হাড়ের মধ্যে স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রবল যন্ত্রণারও শিকার হন অনেকে। ডাক্তারি পরিভাষায় যার নাম, মর্টনস নিউরোমা৷ ব্যথা থেকে মুক্তি দিতে অনেক সময় এই রোগে আক্রান্তদের অস্ত্রোপচারও করতে হয়৷
এমতাবস্থায় বিশেষজ্ঞরা বলেন, হিলের উচ্চতা ইঞ্চির তিন চতুর্থাংশ অথবা এক ইঞ্চির বেশি না হওয়াই বাঞ্ছনীয়। হিলের উচ্চতা নির্দিষ্ট করা এবং পায়ের নিয়মিত ব্যায়াম করা আবশ্যিক। আর কোনো সমস্যা টের পেলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।