অনলাইন ডেস্ক, ৬ জানুয়ারি।। তিন কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে প্রায় দেড় মাস হতে চলল দিল্লিতে ধরনা ও বিক্ষোভ দেখিয়ে চলেছেন কৃষকরা। বিক্ষোভ আন্দোলন চালিয়ে গেলেও তাঁদের কাজে কিন্তু কোনও খামতি নেই। বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি তাঁরা দিব্যি চাষবাসও শুরু করেছেন দিল্লিতে। বুরারি ময়দানে মাথা তুলেছে পেঁয়াজ, ভুট্টা ও বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন শাকসবজির গাছ। সেই সঙ্গে কনকনে ঠান্ডার মধ্যেও মাথা দোলাচ্ছে সূর্যমুখীর দল। দেখে বোঝা যাবে না এটা কোন বিক্ষোভস্থল, না চাষের মাঠ।
প্রতিবাদরত কৃষকরা প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি নতুন উদ্যোমে ফসল ফলানোর কাজও শুরু করেছেন বুরারি ময়দানে। মানুষ এখন বুরারি ময়দানে কৃষকদের এক অভিনব প্রতিবাদের ছবি দেখতে পাচ্ছেন। বুধবার সকালে দেখা গেল বেশ কিছু কৃষক যত্নের সঙ্গে চারা গাছে জল দিচ্ছেন। পরিষ্কার করছেন আগাছা। মাঙ্গা সিং নামে মধ্যবয়স্ক এক কৃষক জানালেন, যে পেঁয়াজ তাঁরা চাষ করেছেন সেটা তুলতে ৬০ দিন সময় লাগবে। তাঁরা যে খুব শিগগিরই এই প্রতিবাদের জমি ছেড়ে যাবেন না এটা তারই প্রমাণ।
অন্যদিকে সুখদেব সিং নামে আর এক কৃষক জানালেন, তিনি ফিরোজপুর থেকে দিল্লিতে এসেছেন। সুখদেব বুরারি ময়দানে মনের সুখে পালং, টমেটো, পেঁয়াজকলির চাষ করেছেন। এমনকি বুনেছেন সূর্যমুখীর দানাও। সুখদেবের দাবি, শীত কমলে তিনি এখানে ধান চাষও করবেন এবং বসাবেন গরমের সবজি। আন্দোলনরত কৃষকদের খাবারের ব্যবস্থা করার জন্যই তাঁরা চাষবাস শুরু করেছেন বলে সুখদেব জানান।
উল্লেখ্য, আন্দোলনরত কৃষকদের কেন্দ্র প্রস্তাব দিয়েছিল বুরারি ময়দানে এসে জমায়েত হওয়ার জন্য। কারণ জাতীয় সড়ক আটকে রাখায় অর্থনীতির ক্ষতি হচ্ছে। কিন্তু সরকারের ওই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন কৃষকরা। তবে প্রায় ৪০০ কৃষক সরকারের প্রস্তাব মেনে উঠে এসেছিলেন বুরারি ময়দানে। তাঁরাই বর্তমানে সেখানে চাষবাস শুর করছেন। পাল্টে দিয়েছেন বুরারি ময়দানের চেহারা।
বছর চব্বিশের তরুণ কৃষক কুলদীপ সিং। ফরিদপুরের এই যুবক জানালেন, চাষবাস করার সঙ্গে সঙ্গে অবসর সময়ে তাঁরা খেলাধুলা ও শরীর চর্চাও করছেন। কয়েকদিন আগে এক ব্যক্তি তাঁদের একটি ভলিবল ও নেট দিয়ে গিয়েছে। বিকেলের দিকে তাঁরা ভলিবল খেলেই সময় কাটাচ্ছেন। কুলদীপের দাবি, তাঁদের রক্তে রয়েছে পরিশ্রম করা। তাই চাষবাস করার পাশাপাশি মনের আনন্দে খেলাধুলোও করছেন। খুব শিগগিরই তাঁদের চাষ করা সবজি উঠবে বলে কুলদীপ জানান।