অনলাইন ডেস্ক, ৫ জানুয়ারি।। দু’দিন আগে উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের মুরাদনগর এলাকায় একটি শ্মশানে ছাউনি ভেঙে পড়লে ২৪ জনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হন ২০ জন। আহতদের মধ্যে এখনও বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত ঠিকাদার অজয় ছিল পলাতক। শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
ঘটনার পর থেকেই পালিয়ে বেড়াচ্ছিল অজয়। তাই গাজিয়াবাদ পুলিশ ঘোষণা করেছিল, কেউ অজয়ের খোঁজ দিতে পারলে ২৫ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। শ্মশানের ছাদ ভেঙে পড়ার ঘটনায় সোমবার গ্রেফতার করা হয়েছিল তিনজনকে। তাঁরা হলেন জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার চন্দ্রপাল, সুপারভাইজার আশিস এবং স্থানীয় পৌরসভার এক্সিকিউটিভ আধিকারিক নিহারিকা সিং।
কিন্তু মূল অভিযুক্ত ঠিকাদার অজয় ছিল পলাতক। মঙ্গলবার সকালে পুলিশের জালে ধরা পড়ে অজয়। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মূল অভিযুক্ত-সহ অন্যদের কড়া শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। কোনওভাবেই অভিযুক্তরা পার পাবে না।
ছাদ ভেঙে পড়ার ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই দুই সদস্যের এক তদন্তকারী দলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এদিকে ছাদ ভেঙে পড়ার ঘটনায় মৃত ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছেন। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে শ্মশানের ছাদ নির্মাণ করা হয়েছিল। সে কারণেই সামান্য বৃষ্টিতেই তা ভেঙে পড়ে এক একসঙ্গে এত জন মানুষের মৃত্যু হল। ছাদ ভেঙে পড়ার ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে বিজয়পাল সিংয়ের জামাইয়ের।
বিজয়পাল এদিন দাবি করেন, এই ঘটনার দায় স্বীকার করে গাজিয়াবাদের মেয়রের পদত্যাগ করা উচিত। মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ জানিয়েছেন, শ্মশানের ছাদ ভেঙে পড়ার এই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জাতীয় সুরক্ষা আইনে মামলা করা হবে।