অনলাইন ডেস্ক, ৫ জানুয়ারি।। টাটা গোষ্ঠীর প্রাক্তন চেয়ারম্যান রতন টাটা শুধু একজন শিল্পপতি হিসেবেই পরিচিত নন। একাধিকবার রতন টাটার মানবিক মুখ দেখা গিয়েছে। মানুষ থেকে শুরু করে সাধারণ পশু সকলের জন্যই তিনি সমান রকম দরদী।
করোনাজনিত মহামারী রুখতে দেশে যখন লকডাউন জারি করা হয়েছিল সে সময় তিনি নানাভাবে সাধারণ মানুষকে সাহায্য করেছেন।সরকারকে দিয়েছেন কোটি কোটি টাকা অনুদান। করোনা আক্রান্তদের জন্য তৈরি করেছেন হাসপাতাল। এমনকি, করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্যও করেছেন। সম্প্রতি রতন টাটা জানতে পারেন, তাঁরই সংস্থার এক প্রাক্তন কর্মী গুরুতর অসুস্থ।
প্রায় দুই বছর ধরে তিনি শয্যাশায়ী হয়ে আছেন। আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় ঠিকমতো চিকিৎসা করাতেও পারছেন না। ওই খবর জানার পরেই ৮৩ বছরের রতন টাটা ছুটে যান তাঁর সংস্থার প্রাক্তন কর্মীর বাড়ি। মুম্বই থেকে পুণের ফ্রেন্ড সোসাইটিতে পৌঁছে যান অশীতিপর এই শিল্পপতি।
নিজের বাড়িতে সংস্থার প্রাক্তন চেয়ারম্যানকে দেখে অবাক হয়ে যান টাটা গোষ্ঠীর সেই কর্মীও। প্রথমে তাঁর নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না ওই কর্মী। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর ভুল ভাঙে।
টাটা গোষ্ঠীর প্রাক্তন চেয়ারম্যান রতন টাটা তাঁর পিঠে হাত রেখে আশ্বাস দেন সব ধরনের সাহায্য করার। চিকিৎসার বিষয়েও পরামর্শ দেন। জানা গিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়া থেকে রতন টাটা ওই কর্মীর শারীরিক ও আর্থিক পরিণতির কথা জানতে পেরেছিলেন।
বিষয়টি জানার পর রতন টাটা নিজের চেষ্টাতেই তাঁর সংস্থার ওই প্রাক্তন কর্মীর ঠিকানা সংগ্রহ করেন এবং তার বাড়ি পৌঁছে যান। তবে তাঁর যাওয়ার বিষয়টি একেবারেই গোপন রেখেছিলেন। সংবাদমাধ্যমও ঘুনাক্ষরেও বিষয়টি টের পায়নি।
কিন্তু রতন টাটার ঘনিষ্ঠ কিছু মানুষ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীর পরিবারের তরফ থেকে গোটা বিষয়টি প্রকাশ্যে আনা হয়। এই ঘটনা জানার পর ফের একবার সকলেই রতন টাটার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। উল্লেখ্য, গত বছর কেরলে বাজি বিস্ফোরণে এক হাতির মৃত্যুর করা সমালোচনা করেছিলেন তিনি।