অনলাইন ডেস্ক, ৩১ ডিসেম্বর।। কেন্দ্রের নতুন তিন কৃষি আইনের বিরুদ্ধে সর্বসম্মতভাবে একটি প্রস্তাব পাস হল কেরল বিধানসভায়। কেরলের সব রাজনৈতিক দলের বিধায়করা মনে করেন, সংসদে পাস হওয়া তিনটি কৃষি আইন সামগ্রিকভাবে সারাদেশে কৃষিক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা নষ্ট করবে। নতুন কৃষি আইন কার্যকর হলে কার্যত মানুষকে অনাহারে থাকতে হবে।
করোনাজনিত পরিস্থিতির মধ্যে নতুন কৃষি আইনের ধাক্কা কেরলের পক্ষে সহ্য করা সম্ভব হবে না। বৃহস্পতিবার কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন প্রস্তাবটি বিধানসভায় পেশ করেন। মুখ্যমন্ত্রী সভায় বলেন, কেন্দ্রের উচিত সমস্ত কৃষি পণ্য কিনে নিয়ে তা সস্তা দরে বিক্রি করা। কিন্তু সেই কাজ না করে কেন্দ্র কর্পোরেট সংস্থাগুলিকে কৃষি পণ্যের ব্যবসা করে দেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।
কৃষকদের উপযুক্ত মূল্য দেওয়ার দায়িত্ব থেকে সরে আসছে কেন্দ্র। এটা ঠিক নয়। নতুন এই আইন কার্যকর হলে কৃষকরাও যেমন তাঁদের উৎপাদিত ফসলের উপযুক্ত দাম পাবেন না, তেমনই ভোক্তারাও অনেক বেশি দামে বিভিন্ন কৃষিজ পণ্য কিনতে বাধ্য হবেন। তাই এই নতুন কৃষি আইন কৃষক ও আমজনতা কারও পক্ষেই সুবিধাজনক নয়। কেন্দ্রের উচিত, এই আইন প্রত্যাহার করে নেওয়া। একমাস চারদিন হল কৃষকরা দিল্লিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন।
একথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় বলেন, কৃষক আন্দোলন যদি আরও দীর্ঘায়িত হয় তবে কেরলের ব্যাপক ক্ষতি হবে। রাজ্যে খাদ্যশস্য আমদানি বন্ধ হয়ে যাবে। অনাহারে থাকতে হবে কেরলবাসীদের।
এই নতুন কৃষি আইন কার্যকর হলে নূন্যতম সহায়ক মূল্য কৃষকরা পাবেন না বলে মনে করছেন।
অন্যদিকে বড় কর্পোরেট সংস্থার সঙ্গে দর কষাকষির ক্ষমতাও কৃষকদের নেই। এই সমস্যার কথা চিন্তা করেই কেরল বিধানসভা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছে, এই তিন কৃষি আইন প্রত্যাহার করে নেওয়া হোক।