অনলাইন ডেস্ক, ৩১ ডিসেম্বর।। মহামারীর থাবা থেকে মুক্তির একটা উপায়। নতুন বছরে এর থেকে ভাল উপহার আর কিই বা হতে পারে। নতুন বছরে করোনা ভ্যাকসিনের দিকে তাকিয়ে দেশের কোটি কোটি মানুষ। আর এই পরিস্থিতিতে আশা জাগাচ্ছে একাধিক সুখবর।
কোভিশিল্ড: ব্রিটেন ইতিমধ্যেই অনুমোদন দিয়ে দিয়েছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার এই টিকাকে। তারপরই তড়িঘড়ি তৎপরতা শুরু হয়েছে ভারতেও। বুধবারই দীর্ঘ পর্যালোচনা বৈঠকে বসে বিশেষজ্ঞ কমিটি।
হিউম্যান ট্রায়ালের শুরুর দিকে সাফল্যের হারে কিছুটা পিছিয়ে ছিল এই ভ্যাকসিন। কিন্তু দ্বিতীয় দফার পরেই দুরন্ত কামব্যাক। অ্যাস্ট্রাজেনেকার সিইও দাবি করেছেন যে দুটি ডোজে তাঁদের ভ্যাকসিনের সাফল্যের হার প্রায় ১০০ শতাংশ। ভারতে এই ভ্যাকসিন নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছে পুণের সেরাম ইনস্টিটিউট। শোনা যাচ্ছে, আগামী দু-একদিনের মধ্যেই এই টিকাকে ভারতে ছাড়পত্র দেওয়া হতে পারে।
কোভ্যাকসিন: সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি, ভারত বায়োটেকের কোভ্যাকসিনকেও ছাড়পত্র দেওয়া হতে পারে আগামী কয়েকদিনেই। শুক্রবার দ্বিতীয় দফার বৈঠকে রিভিউ হতে পারে এই ভ্যাকসিন নিয়েও। ইতিমধ্যেই নির্মাতারা দাবি করেছেন, করোনার যে নতুন ব্রিটিশ স্ট্রেন নিয়ে গোটা বিশ্বে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, তাকেও কাবু করতে সক্ষম ভারতের কোভ্যাকসিন।
পয়লা জানুয়ারি পর্যালোচনা বৈঠকের পর ছাড়পত্র পেতে পারে কোভ্যাকসিনও। স্পুটনিক ভি: আমেরিকা-ইউরোপের সমান্তরালভাবে গবেষণা এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে রাশিয়াও। তাদের তৈরি স্পুটনিক ভি-র সাফল্যের হার ৯১ শতাংশ বলে দাবি করেছে রাশিয়া।
ইতিমধ্যেই রাশিয়ায় গণ টিকাকরণ শুরু হয়ে গিয়েছে। রাশিয়া জানিয়েছে, ভারতের একাধিক সংস্থার সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে এই ভ্যাকসিন তৈরি হবে ভারতেও। সুতরাং দ্রুত এই টিকার উৎপাদন ভারতেও শুরু হওয়ার আশা রয়েছে। শুক্রবারের বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে ফাইজারের টিকা নিয়েও।
যদিও এই টিকার ক্ষেত্রে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হল তার সংরক্ষণ। মাইনাস সত্তর ডিগ্রিতে সংরক্ষণ করতে হয় এই টিকা। এই পরিকাঠামো ভারতে বিশেষ নেই। কাজেই বাকি বিকল্পগুলোর দিকেই সরকার ঝুঁকবে বলে মনে করা হচ্ছে।