ম্যারাডোনার বিদায়ের বছর ২০২০

অনলাইন ডেস্ক, ৩১ ডিসেম্বর।। অতিমারীর বছরে মৃত্যুমিছিল হওয়াটাই স্বাভাবিক। তাই বলে এত মৃত্যু। বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গন শোকে পাথর হয়ে গেছে, তবু মৃত্যু থামেনি। জানুয়ারিতে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিলেন ‘ব্ল্যাকমাম্বা’খ্যাত কোবি ব্রায়ান্ট। এরপর বছর শেষে চলে গেলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনাও। বিদায়ী বছরে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গন যাদের হারিয়েছে তাদের নিয়ে এই আয়োজন…

কোবি ব্রায়ান্ট- নতুন বছর শুরুর ২৭ দিন পর কুয়াশার মধ্যে লস অ্যাঞ্জেলেস শহরতলির পাহাড়ি এলাকা কালাবাসাস অঞ্চলে ভেঙে পড়েছিল একটি হেলিকাপ্টার। তাতে ছিলেন বাস্কেটবল কিংবদন্তি কোবি ব্রায়ান্ট এবং তার ১৩ বছরের কন্যা জিয়ান্না। সেই খবর আছড়ে পড়ে সারা দুনিয়ায়। ব্ল্যাকমাম্বা আর নেই। ২০০৮ ও ২০১২ অলিম্পিকে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে সোনাও জিতেছিলেন তিনি। ১৯৯৬-২০১৬ পর্যন্ত লস অ্যাঞ্জেলেস লেকার্সের হয়ে ১৩৪৬টি এনবিএ ম্যাচে তার অর্জিত পয়েন্টের সংখ্যা ৩৩৬৪৩।

এভারটন উইকস- থ্রি ডব্লিউর শেষ প্রহরী এভারটন উইকস জুনে প্রয়াত হয়েছেন। ১৯৪৮ সালে তিন সপ্তাহের ব্যবধানে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল ‘থ্রি ডব্লিউ’র। তিনজনই উঠে এসেছিলেন বার্বাডোজ থেকে। তবে ব্যাটিংয়ে সবাইকে ছাপিয়ে গেছেন উইকস। তিনিই ছিলেন থ্রি ডব্লিউর সেরা ব্যাটসম্যান। ৪৮ টেস্টে ১৫ সেঞ্চুরি ও ১৯ হাফসেঞ্চুরিতে ৫৮.৬১ গড়ে করেছেন ৪৪৫৫ রান। ক্রিকেটে অসামান্য অবদানের জন্য তাকে নাইটহুড দেওয়া হয়।

ডিন জোন্স- জৈব সুরক্ষা বলয়ে থেকেই স্টার স্পোর্টস ইন্ডিয়ার হয়ে আইপিএলে ধারাভাষ্য দিচ্ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার ডিন জোন্স। ২৪ সেপ্টেম্বর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। ১৯৮৪ সালে অভিষিক্ত প্রফেসর ডিনো ৫২ টেস্টে ৩৬৩১ রান করেন। আছে ১১টি সেঞ্চুরি। ১৬৪টি ওয়ানডে খেলে করেছেন ৬০৬৮ রান। সেঞ্চুরি ৭টি। ১৯৮৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম বিশ্বকাপ জয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য পেস ও স্পিন খেলতেন সমান দক্ষতায়।

ডিয়েগো ম্যারাডোনা- ৩০ অক্টোবর ৬০তম জন্মদিনের পর থেকেই শরীরটা খারাপ হতে থাকে। মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের ৮ দিন পর বুয়েনস আয়ার্সের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। বাড়িতেই আচমকা হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। এরপরই শতাব্দীর বড় শোক সংবাদটি শোনে পৃথিবীÑ আর্জেন্টিনার ফুটবল ঈশ্বর ডিয়েগো ম্যারাডোনা আর নেই। ১৯৮৬’র মেক্সিকো বিশ্বকাপ জিতিয়েছিলেন আর্জেন্টিনাকে। ১৯৯০’র বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তোলেন। সেই আর্জেন্টিনাকে কোচিং করিয়েছেন ২০০৮ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত। বিতর্ক আজীবন তার সঙ্গী ছিল। ১৯৯৪ সালে আমেরিকা বিশ্বকাপে ডোপ পরীক্ষায় পজিটিভ হওয়ার পর ম্যারাডোনাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের মাধ্যমেও বিতর্কিত হন। তবে সেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই শতাব্দী সেরা গোল করে হয়ে যান ইতিহাস।

পাওলো রসি- ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুশোক মুছতে না মুছতেই ২৩ ডিসেম্বর প্রয়াত হন আরেক কিংবদন্তি ফুটবলার পাওলো রসি। ইতালির হয়ে ১৯৮২ বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। জুভেন্তাস এবং এসি মিলানের সাবেক স্ট্রাইকার ১৯৮২ সালে স্পেন বিশ্বকাপে প্রায় একাই দলকে চ্যাম্পিয়ন করেন। বিশ্বকাপ, সোনার বল, সোনার বুট তিনটি পুরস্কার একই বছরে জেতার নজির প্রথম তৈরি করেন পাওলো রসি। ১৯৭৭ থেকে ১৯৮৬ পর্যন্ত ইতালির হয়ে ৪৮ ম্যাচে ২০ গোল করেছেন তিনি। এ ছাড়া করোনা মহামারীর বছরে মারা গেছেন ভারতীয় ক্রিকেটার চেতন চৌহান, ফুটবলার চুনি গোস্বামীর মতো তারকারা।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?