অনলাইন ডেস্ক, ৩০ ডিসেম্বর।। শেষ পর্যন্ত কৃষকদের তোলা চারটি দাবির মধ্যে দু’টি দাবি মেনে নিল কেন্দ্র। অপর দুটি দাবি নিয়ে কৃষকদের সঙ্গে ৪ জানুয়ারি ফের বৈঠকে বসবে সরকার। একই সঙ্গে এ দিনের বৈঠকে কৃষকদের সমস্যা সমাধান করতে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে নিয়ে এই কমিটি গড়ার কথা বলা হয়েছে। বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর বলেন, কৃষকরা যে সমস্ত দাবি করেছেন তার মধ্যে দু’টি দাবি আমরা মেনে নিচ্ছি। আর দু’টি বিষয়ে কথা বলার জন্য ৪ জানুয়ারি ফের বৈঠক হবে। ওই দিনও দুপুর দু’টোয় শুরু হবে বৈঠক। একই সঙ্গে কৃষিমন্ত্রী এদিন পথে নামা কৃষকদের বাড়ি ফিরে যেতে অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, প্রবল শীতে এভাবে কষ্ট করার কোনও অর্থ হয় না। সরকার তাঁদের প্রতিটি দাবি সহানুভূতির সঙ্গে খতিয়ে দেখবে।
তবে এদিনের বৈঠকে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। বুধবার কৃষকদের সঙ্গে ফের আলোচনায় বসেছিল কেন্দ্র। এদিনের বৈঠকে কৃষকদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনার জন্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কৃষকরা চাইলে সেই কমিটি তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করবে বলে কেন্দ্র জানিয়েছে। বৈঠকে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওই কমিটিতে সব পক্ষের প্রতিনিধিরা থাকবেন। অর্থাৎ কৃষক সংগঠনের প্রতিনিধিরা যেমন থাকবেন তেমনি থাকবেন সরকারের প্রতিনিধিরা। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদেরও এই কমিটিতে রাখা হবে। উদ্ভূত সমস্যার সমাধান করতে সুপ্রিম কোর্টও একই নির্দেশ দিয়েছে।এ দিনের বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কোনও আইন প্রত্যাহার করতে গেলে তার জন্য সময় প্রয়োজন। অল্প সময়ের মধ্যে সেটা কখনওই করা যায় না। সে কারণেই এই কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
নতুন তিন কৃষি আইন নিয়ে কৃষকদের যে ক্ষোভ রয়েছে কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করলে তার একটা সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসবে বলেই কেন্দ্রের আশা। এ দিনের বৈঠকে সরকার অবশ্য কৃষকদের দু’টি দাবি মেনে নিয়েছে। যার একটি হল ইলেকট্রিসিটি সংশোধনী বিল বাতিল করা। অপরটি হল ফসলের গোড়া পোড়ানোর ফলে কৃষকদের জরিমানার যে আইন করা হয়েছিল সেটা বাতিল করা। এ দিনের বৈঠকে কৃষক নেতারা দাবি করেন, কৃষিক্ষেত্রে বিদ্যুতের বিলে যে ভর্তুকি দেওয়া হত তা বজায় রাখতে হবে। পাশাপাশি ফসলের গোড়া পোড়ানোর ক্ষেত্রে জরিমানা ধার্য করার যে আইন করা হয়েছে তা বাতিল করতে হবে। কেন্দ্র কৃষকদের এই দুই দাবি মেনে নেয়।
তবে কৃষি আইন প্রত্যাহার করার বিষয়ে কেন্দ্র এখনও পর্যন্ত ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। পাশাপাশি ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নিয়ে কোনও গ্যারান্টি দিতে রাজি হয়নি কেন্দ্র। অন্যদিকে কৃষকদের অভিযোগ, নতুন কৃষি আইন কার্যকর হওয়ার পর উত্তরপ্রদেশের মত রাজ্যে কোথাও কোথাও ফসলের দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গিয়েছে। ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের নিচে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। কৃষিমন্ত্রী এদিন আন্দোলনরত কৃষকদের বাড়ি ফিরে যেতে অনুরোধ করলেও সেই অনুরোধ উড়িয়ে দিয়েছেন কৃষকনেতা রাকেশ সিং টিকায়েত। তিনি বলেছেন, যতক্ষণ না আমাদের দাবি পূরণ হচ্ছে ততক্ষণ আমরা দিল্লিতে বসে থাকব। দিল্লিতেই এবার আমরা নববর্ষ পালন করব।